আমাদের সম্পর্কে
আমাদের কথা

ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম চলচ্চিত্রকার হিসেবে ধরা হয় দাদা সাহেব ফালকেকে। কিন্তু জানা গেল দাদা সাহেবেরও আগে চলচ্চিত্র নিয়ে কাজ করেছিলেন এই জনপদের চলচ্চিত্রের পথিকৃৎ হীরালাল সেন। তখন থেকে বাঙালি বলা শুরু করল, প্রথম চলচ্চিত্রকার দাদা সাহেব ফালকে নন, হীরালাল সেন। এই যে প্রথম চলচ্চিত্রকার হিসেবে হীরালাল সেনকে আবিষ্কারের আগে দাদা সাহেবকে মেনে নেওয়া-এর একটিই কারণ আমাদের কাছে ধরা দেয়। সে হলো-বাঙালির পঠন-পাঠনের অভাব। বাঙালি যেমন পড়া বিমুখ তেমনি বাংলা ভাষায় চলচ্চিত্র নিয়ে বই, প্রবন্ধ, নিবন্ধেরও অভাব প্রবলসম। পশ্চিমে লুমিয়ের ভাইদের দিয়ে চলচ্চিত্র যাত্রা শুরু হয়েছিল। তাই পঠন-পাঠনেও তাঁদের দ্বারেই ঘুরতে হয়। আঠারো শ শতকে এ জনপদে চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু হলেও পঠন-পাঠনে এখনও শিশুটিই আছে। বিশ্ব চলচ্চিত্রের গতি-প্রকৃতি, বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র সংস্কৃতি, চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সিনেমানুষেরা অজানা থেকে গেছে এ জনপদের মানুষের কাছে। চলচ্চিত্র পাঠ বলতে আছে কেবল-চলচ্চিত্র সংসদগুলোতে সীমিত পরিসরের লাইব্রেরিতে কিছু অন্য ভাষার বই, বাজারে প্রচলিত পশ্চিমবঙ্গের টেকনিক্যাল কথাবার্তায় ভরা কিছু বই এবং অন্তর্জাল ঘেঁটে অন্য ভাষার তথ্য হাতড়ানো। যদিও কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেমা নিয়ে পড়ানো শুরু হয়েছে, চালু হয়েছে একটি ফিল্ম ইনস্টিটিউট, তথাপি তাঁদের লাইব্রেরির অবস্থা তথৈবচ। সবখানেই বাংলা ভাষায় চলচ্চিত্র নিয়ে বইয়ের সংখ্যা হাতেগোনা। বাংলা ভাষায় চলচ্চিত্র নিয়ে পাঠের ও পাঠযোগ্য তথ্যের এই হলো দশা। এমন পরিস্থিতিতে আমরা নেমেছি বাংলা ভাষী মানুষের কাছে বিশ্ব চলচ্চিত্রকে পৌঁছে দিতে। সফল কতটুকু হবো, সে ভবিতব্যের কথা। আমাদের কথা - আমরা নেমেছি। আমরা যদি হেরে যাই, তবে উত্তরসূরীদের কাছে থাকল তীরে পৌঁছানোর ভার।

নাম দিয়েছি সিনেঘর। থাকবে বিশ্বের সেরা চলচ্চিত্র নিয়ে কথাবার্তা। বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র সংস্কৃতি, চলচ্চিত্রের বেড়ে ওঠার গল্প। ক্যামেরার পেছনের মানুষগুলোর জীবনযাত্রা-চলচ্চিত্রযাত্রা। চলচ্চিত্র নির্মাণের দারুণ সব অভিজ্ঞতা। বিভিন্ন চলচ্চিত্র সমালোচনা। অনেক সময় বিভিন্ন দেশের ধ্রুপদি চলচ্চিত্র ভাষার দুর্বোধ্যতায় দেখতে অনীহা জাগে। সে কারণে থাকবে বিভিন্ন চলচ্চিত্রের বাংলা সাবটাইটেল। থাকবে আপনাদেরও অংশগ্রহণে চলচ্চিত্র নিয়ে কথা বলার সুযোগ। সে জন্য আমাদের ব্লগে কেবল একটি অ্যাকাউন্ট খোলাই যথেষ্ট হবে।

একটি দেশের চলচ্চিত্র সংস্কৃতি শুধু চলচ্চিত্র তৈরি করেই সৃষ্টি করা যায় না। তার জন্য চাই চলচ্চিত্র মানস তৈরি করা। চলচ্চিত্র দেখার রুচি তৈরি করা। সারা বাংলাদেশ জুড়ে বিভিন্ন দেশের সেরা চলচ্চিত্রগুলো দেখাতে আমাদের রয়েছে আয়োজন ছবিঘর নামে। বিশ্বের সেরা সব চলচ্চিত্র থাকবে এই আর্কাইভে। রোববারের আড্ডা নামে প্রতি রোববার প্রদর্শিত হবে ছবি। শুধু ছবি দেখিয়েই শেষ নয়, থাকবে ছবি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক-আলোচনা-সমালোচনা। থাকবে ছবিঘর থেকে ছবি নেওয়ারও ব্যবস্থা। প্রথমত রাজধানী কেন্দ্রীকই থাকছে ছবি প্রদর্শনী। আমাদের বাহুতে বল হলে, তা ছড়িয়ে দিব প্রতিটি গ্রামে গ্রামে।

আমরা যাঁরা নিজের খেয়ে এই বনের মোষ তাড়াচ্ছি, তাঁরা কেউ পাকা নই-একেবারেই কাঁচাটি। ভুল থাকবে-মেনে নিয়েই পথচলা শুরু করেছি। সমালোচনা চাই না, বিবাদ চাই না, চাই-বড়টি হয়ে পরামর্শ দিন। এগিয়ে যাওয়ার পথে কাটাটি উপরে ফেলতে সাহায্য করুন। আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে। আরও অনেক অনেক কথা। সেসব না হয় ঝুলিতে কিছু থেকেই গেল। কিছু জানতে হলে ইথারচিঠি (মেইল) পাঠান আমাদের কাছে। আমরা উত্তর দিতে সদা প্রস্তুত। তা হলে আর কথা থাক। বাকিটা ঘুরেই জানুন আমাদের আঙিনা।