লেখকের ডায়রি

গিবলির ছবি নিয়ে থিমপার্ক

স্টুডিও গিবলি
সিনেঘর ওয়েব দল

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯

জাপানি অ্যানিমেশন ভক্তদের জন্য সুখবর বটে। বিশেষ করে স্টুডিও গিবলির যারা ভক্ত, তাদের জন্য এটি রোমাঞ্চকরও। এতদিন সিনেমার পর্দায় যা দেখা গেছে, সেগুলোই বাস্তবে হাজির হতে যাচ্ছে। স্পিরিটেড অ্যাওয়ে ছবির অ্যামিউজমেন্ট পার্ক-এ আপনি নিজেও যেতে পারবেন ইচ্ছে হলেই। জাপানের পন্ডিত চলচ্চিত্রকার হায়াও মিয়াজাকির সিনেমা নিয়ে বানানো হচ্ছে থিম পার্ক। আর এটি খুলে দেওয়া হবে আর মাত্র দু বছর পরেই, ২০২২ সালে।

থাকবে অসাধারণ সব রাইড
মিয়াজাকির দুর্দান্ত দুটি সিনেমা মাই নেইবার টোটোরো ও স্পিরিটেড অ্যাওয়ে ছবি দুটি থেকে বিভিন্ন রাইড থাকবে এই থিম পার্কে। পার্কের প্রধান ফটক বানানো হবে হোউলস মুভিং ক্যাসেলস -এর আদলে। পার্কের কেবল কিছু নকশা করা হয়েছে। সম্প্রতি সেগুলো প্রকাশ করা হয়েছে টুইটারে। তাতে অ্যানিমেশন ভক্তরা যারপরনাই উচ্ছ্বসিত। থিম পার্কে ইউরোপিয় স্টাইলের কিছু ঘর থাকবে। যা প্রায় সবগুলো গিবলি ছবিতেই দেখা গেছে। থাকবে গিবলি স্টুডিওর বিভিন্ন ছবির রাইড।

কে এই মিয়াজাকি
জাবানের গিবলি স্টুডিওর সহ প্রতিষ্ঠাতা হায়াও মিয়াজাকি। প্রিন্সেস মনোনোকেক্যাসল ইন দ্য স্কাই এর মতো অসাধারণ ছবি করেছেন তিনি। এই ছবি দুটি নিয়ে বানানো হয়েছে থিম পার্কও। যা সম্মানিত করেছে মিয়াজাকিকে। তাঁর চলচ্চিত্র স্পিরিটেড অ্যাওয়ে ২০০৩ সালে সেরা অ্যানিমেটেড ছবি হিসেবে অস্কার পায়। প্রথমবারের মতো কোনো জাপানি অ্যানিমেশন ছবি এমন সম্মানে ভূষিত হয়। এ ছাড়া গিবলি স্টুডিও থেকে মিয়াজাকি অসাধারণ অনেক চলচ্চিত্র বানিয়েছেন। ২০১৪ সালে চলচ্চিত্র থেকে অবসরের ঘোষণা দেন অ্যানিমেশনের এই প্রবাদ প্রতিম মানুষ। অ্যানিমেশন ছবির জন্য এটি বেশ খারাপ একটি খবর ছিল।

যাই হোক ফের সম্প্রতি তিনি ঘোষণা দিয়েছেন সর্বশেষ তিনি একটি ছবি বানাবেন। ছবিটি ২০২০ সালে মুক্তি পাবে। জানা গেছে, এই ছবিটি তিনি বানাবেন তাঁর নাতির জন্য। তাঁর নাতি তোশিও সুজুকি এক সাক্ষাতকারে বলেন, আমার দাদা এবার নতুন এক বিশ্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। এটাই হবে তাঁর শেষ ছবি।

থিম পার্কের ধারণার শুরুটা যেভাবে
গিবলি স্টুডিওর থিম পার্ক বানানোর খবর মূলত আরেক কিংবদন্তি অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রকার ইসাও তাকাহাতার মৃত্যুর পরে সংবাদমাধ্যমে চলে আসে। তাকাহাতাও গিবলি স্টুডিওতে কাজ করতেন। তাঁরও রয়েছে অসাধারণ কিছু চলচ্চিত্র। গ্রেইভ অব দ্য ফায়ার ফ্লাইসটেল অব প্রিন্সেস কাগুয়া ছবি দুটি তাদের মধ্যে অন্যতম। আশা করা যাচ্ছে, থিম পার্কে তাঁর ছবিগুলোও নেওয়া হবে।

যদিও স্টুডিও গিবলি এরই মধ্যে একটি জাদুঘর বানিয়ে ফেলেছে। এটি রয়েছে টোকিও শহরে। জাপানসহ সারা বিশ্বের ভ্রমণপিপাসু মানুষদের জন্য এটি অসাধারণ একটি জায়গা। এখানে আছে বইয়ের দোকান, ক্যাফে, বাগান। সবগুলোই ডিজাইন করা মিয়াজাকির। ২০০১ সাল থেকে চালু হওয়া এই জাদুঘর অ্যানিমেশন ভক্তদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। এবার বানানো হচ্ছে থিম পার্ক। এটিও অ্যানিমেশন ভক্তদের জন্য হয়ে উঠবে আরেক আগ্রহের জায়গা।

সূত্র: ফোর্বস

চলুন দেখে আসা যাক থিম পার্কের নকশা (সকল ছবি স্টুডিও গিবলির সৌজন্যে)