লেখকের ডায়রি

আমার প্রিয় মৃণালের সেরা পাঁচ

জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলী
হৃদয় আহমেদ

১৪ মে, ২০২০
মৃণাল সেন। ছবি: সংগৃহীত

মৃণাল সেন। বাংলা চলচ্চিত্রের তিন দিকপালের একজন। ১৯২৩ সালের ১৪ মে ফরিদপুরের একটি শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ফরিদপুরে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে কলকাতায় উচ্চশিক্ষা। ছাত্রাবস্থায় যুক্ত হন বামপন্থার সঙ্গে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করবার পর তিনি একজন সাংবাদিক, একজন ওষুধ বিপননকারী এবং চলচ্চিত্রে শব্দ কলাকুশলী হিসাবে কাজ করেন। এবং শেষেমেশ বাংলা চলচ্চিত্রে আবির্ভূত হন একজন প্রভাবশালী পরিচালক হিসেবে।

১৯৫৫ সালে মৃণাল সেনের প্রথম পরিচালিত ছবি রাত-ভোর মুক্তি পায়। তার শেষ ছবি আমার ভুবন মুক্তি পায় ২০০২ সালে। মৃণাল সেন বাংলা ভাষা ছাড়াও হিন্দি, ওড়িয়া ও তেলেগু ভাষায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। জন্মদিনে তাঁর পাঁচটি ছবি নিয়ে থাকল শ্রদ্ধাঞ্জলী।

ভুবন সোম (১৯৬৯)
উচ্চপদস্থ এক রাগী ও নীরস বুড়ো কর্মকর্তা প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিকারে গিয়ে এক গ্রাম্য কিশোরীর সারল্যের কাছে পায় জীবনের নতুন পাঠ। ব্যক্তিজীবনে মৃণাল ছিলেন সচ্ছল পরিবারের সন্তান। অথচ চলচ্চিত্রে এঁকেছেন প্রান্তিক মানুষের মুখ; গেয়েছেন সাম্যবাদ। এই যে আপাতবিরোধিতা, সেটি যেন এই চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র স্বয়ং ভুবনেরই প্রতিকৃতি। এই ছবিতেই প্রথমবার ভয়েস ওভার দেন অমিতাভ বচ্চন। হিন্দি চলচ্চিত্রে শৈল্পিক ধারার আবির্ভাবের মাইলস্টোন ছবি।

বাইশে শ্রাবণ (১৯৬০)
বাংলা চলচ্চিত্র। জমিদার পরিবারের বংশধর এক লোক কালের ছোবলে এখন ফতুরপ্রায়। ট্রেনে হকারি করে, ছোট্ট এক গ্রামে কোনোমতে বেঁচে থাকে সে ও তাঁর পরিবার। বেঁচে থাকার এই লড়াই, তুচ্ছ আনন্দ থেকে বিধ্বংসী বেদনা—এসব নিয়েই ছবিটি। যদিও তেতাল্লিশের মন্বন্তরের প্রেক্ষাপটে কাহিনি, তবু তা ছাপিয়ে গেছে দেশ-কালের সীমানা। বাহ্যিক দুর্ভিক্ষের পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক নিঃস্বতাকেও করেছে প্রকাশ।

কলকাতা ৭১ (১৯৭২)
বিখ্যাত ‘কলকাতা ট্রিলজি’র দ্বিতীয় সিনেমা। নকশাল আন্দোলন, আমজনতার অনাহার, সামাজিক ও রাজনৈতিক দুর্নীতিগ্রস্ততার চারটি ভিন্ন গল্প এক সুতায় বেঁধেছেন মৃণাল।

আকালের সন্ধানে (১৯৮০)
বাংলা চলচ্চিত্র। দুর্ভিক্ষ নিয়ে সিনেমা বানাতে গ্রামে আসে একটি শুটিং ইউনিট। প্রথমে বেশ ফুরফুরে থাকলেও ধীরে ধীরে তারা জড়িয়ে পড়ে গ্রামের মানুষগুলোর বাস্তবতার সঙ্গে। দেখে, দুর্ভিক্ষ সেই ১৯৪৩ সালেই বিদায় নেয়নি, এখনো মারাত্মকভাবে বিদ্যমান।

খন্ডহর (১৯৮৪)
ঘুরতে গিয়ে তিন শহুরে বন্ধু দেখা পায় এক পরিত্যক্ত ভবনের ভগ্নাংশে জীবন কাটানো এক বুড়ি ও তার কিশোরী কন্যার। এই মা তার দূরসম্পর্কের এক আত্মীয়র জন্য অপেক্ষারত। যে এসে বিয়ে করবে এই মেয়েকে। অথচ সেই লোকটি বিয়ে করে সংসার পেতেছে শহরে। এদিকে এই তিন বন্ধুর একজন সেই কাঙ্ক্ষিত লোকটির ছদ্মপরিচয় নিয়ে বুড়িকে সান্ত্বনা দেয়। নিশ্চিন্ত মনে বুড়িটি মরে গেলে তিন বন্ধু ফিরে আসে শহরে আবার। সেই ভগ্নবাড়িতে মেয়েটি একাই রয়ে যায়।

বিশেষ বিবেচনা
ওকা উড়ি কথা (১৯৭৭)
এটি তেলেগু চলচ্চিত্র। বিখ্যাত সাহিত্যিক মুন্সী প্রেমচাঁদের গল্প ‘কাফন’ অবলম্বনে নির্মিত। গ্রামীণ এক উদ্ভটস্বভাবী, গোঁয়ার পিতা এবং তার পুত্র ও পুত্রবধূর মর্মান্তিক মানসিক সংগ্রামের কাহিনি।