টেলি সামাদ
অভিনেতা, সংগীত পরিচালক ও শিল্পী
নতুন বউ (১৯৮৩), মাটির ঘর (১৯৭৯), নাগরদোলা (১৯৭৯), গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৮), অশিক্ষিত (১৯৭৮), জয় পরাজয় (১৯৭৬), গুন্ডা (১৯৭৬), সুজন সখী (১৯৭৫) ও চাষীর মেয়ে (১৯৭৫)

 

টেলি সামাদ জীবনী

  সিনেঘর ওয়েব দল

৯ এপ্রিল, ২০১৯

ঝাকড়া চুলের ছেলেটির কথা ছিল তুলির আঁচড়ে আঁকবেন হাসি। হাসি আঁকলেন ঠিকই তবে তুলি দিয়ে নয়, অভিনয় দিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় পড়া সেই ছেলেটি বাংলা চলচ্চিত্রের অসাধারণ কমেডিয়ান হিসেবে দেখা দিয়েছিলেন। জায়গা করে নিয়েছিলেন ভক্তমনে। টেলিসামাদ। এক নামে যাকে সবাই চেনে। ৬ এপ্রিল শনিবার তিনি চলে গেলেন ওপারে। তাঁকে নিয়ে থাকল টুকিটাকি।

টেলিসামাদের ব্যক্তিগত জীবন
টেলিসামাদ ১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের (তৎকালীন বিক্রমপুর) সিরাজদিখান উপজেলার নয়াগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার পরে এই গুণী অভিনেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁর বড় ভাইও একজন চারুশিল্পী। নাম—আব্দুল হাই।

চলচ্চিত্র জীবন
১৯৭৩ সালে ‘কার বউ’ চলচ্চিত্রে কৌতুকাভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে চলে আসেন। ‘নয়নমনি’ ও ‘পায়ে চলার পথ’-এর মত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দর্শকের মনে স্থান করে নেন। ‘মনা পাগলা’ চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনার পাশাপাশি ৫০টির মত চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দেন। অভিনয়জীবনে চার দশকে ৬০০ এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

আব্দুস সামাদ থেকে টেলিসামাদ
প্রথম দিকে তিনি আব্দুস সামাদ নামে পরিচিত ছিলেন। এরপর বাংলাদেশ টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান মোস্তফা মামুন তার ডাক নাম দিয়েছিলেন টেলিসামাদ। তারপর থেকে তিনি এ নামেই পরিচিত হন। ২০১৫ সালে তাঁর অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র জিরো ডিগ্রী মুক্তি পায়। এটি পরিচালনা করেছিলেন অনিমেষ আইচ।

মৃত্যু
দীর্ঘদিন ধরেই নানা অসুখে ভুগছিলেন বরেণ্য এই অভিনেতা। সম্প্রতি শরীর বেশি খারাপ হলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়। টেলি সামাদের খাদ্য নালীতে সমস্যা ছিল। এ ছাড়া তাঁর বুকে ইনফেকশন ছিল, ডায়াবেটিস ছিল। রক্তের প্লাটিলেটও কমে যাচ্ছিলো বলে জানা গণমাধ্যমে জানা যায়। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর অসুস্থ হয়ে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন টেলিসামাদ।
সেখানে ১৬ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর বাসায় ফিরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাকে আবার গত ১৯ ডিসেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেবারও বাসায় ফেরেন সুস্থ হয়ে। কিন্তু হঠাৎ করেই কয়েকদিন আগে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন টেলি সামাদ। পরে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে আনা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
এর আগে টেলিসামাদকে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাইপাস সার্জারি করা হয়। গত বছরে তাঁর বাঁ পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিতেও জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। অসুস্থ থাকা অবস্থায় তাঁর খোঁজ খবর কেউ নেয়নি। এ নিয়ে তাঁর আক্ষেপ ছিল। এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেতা বলেছিলেন, ‘আমি ভালো নেই। আমার খবর কেউ এখন আর নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না। ঘরে বসেই কেটে যাচ্ছে আমার সময়। এখন কথা বলতেও কষ্ট হয়। দিনের পর দিন অসুস্থ হয়ে ঘরেই দিন কাটছে আমার। বাইরেও তেমন যাওয়া হয় না।’

সবাইকে হাসির রাজ্যে ডুবিয়ে দিতেন যিনি, তাঁর শেষের জীবনটা কাটল বেশ হতাশায়। কেউ কাছে আসেনি তাঁর। তবে ভক্তরা তাঁকে মনে রাখবেন, তাঁর সিনেমাগুলো দেখে হেসে উঠবেন মনের আনন্দে। এভাবেই তিনি ভক্তমনে আসন করে নিবেন।

টেলিসামাদের অভিনীত সিনেমাগুলো

জিরো ডিগ্রী (২০১৫)
কুমারী মা (২০১৩)
সাথী হারা নাগিন (২০১১)
মায়ের চোখ (২০১০)
আমার স্বপ্ন আমার সংসার (২০১০)
রিকসাওয়ালার ছেলে (২০১০)
মন বসে না পড়ার টেবিলে (২০০৯)
কাজের মানুষ (২০০৯)
মায়ের হাতে বেহেস্তের চাবি (২০০৯)
কে আমি (২০০৯) - হাশেম
কেয়ামত থেকে কেয়ামত (১৯৯৩)
মিস লোলিতা (১৯৮৫)
নতুন বউ (১৯৮৩)
মাটির ঘর (১৯৭৯)
নাগরদোলা (১৯৭৯)
গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৮)
অশিক্ষিত (১৯৭৮)
জয় পরাজয় (১৯৭৬)
গুন্ডা (১৯৭৬)
সুজন সখী (১৯৭৫)
চাষীর মেয়ে (১৯৭৫)
ভাত দে (১৯৮৪)




 খুঁজুন