জঁ লুক গোদা
চলচ্চিত্রকার, ফ্রান্স
জিএলজি/জেএলজি সেল্ফে পোট্রেইট অব ডিসেম্বর (১৯৯৫), নাম্বার টু (১৯৭৫), সিম্প্যাথি ফর দ্য ডেভিল/ ওয়ান প্লাস ওয়ান (১৯৬৮), আওয়ার মিউজিক (২০০৪), কিং লিয়ার (১৯৮৭), হেইল ম্যারি (১৯৮৫), ইন প্যারিস অব লাভ (১৯৯১), নিউ ওয়েভ (১৯৯০), এভরি ম্যান ফর হিমসেল্ফ/স্লো মোশন (১৯৭৯), দ্য হিস্টোরি অব সিনেমা (১৯৮৮-১৯৯৮)

 

জঁ লুক গোদা জীবনী

  ছন্নছাড়া অভাব

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

ভূমিকা
জঁ লুক গোদা। ফরাসি নব তরঙ্গের অন্যতম চলচ্চিত্রকার। ফরাসি-সুইস এই চলচ্চিত্রকারের জন্ম ৩ ডিসেম্বর ১৯৩০ সালে। সে সময়ে হলিউডের কাঠামোবদ্ধ সিনেমাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, তথাকথিত চলচ্চিত্র চিন্তাকে আঘাত করে জন্ম দিয়েছিলেন নতুন চলচ্চিত্র ধারা। ফরাসি নব তরঙ্গ সিনেমা আন্দোলনে অপরিসীম প্রভাব রেখেছিলেন। তাঁর সিনেমায় উঠে এসেছে চলচ্চিত্র ইতিহাসের গভীর পর্যবেক্ষণ, অস্তিত্ববাদি ও মার্কসবাদী দর্শনের বোঝাপড়া এবং মানুষের সম্পর্কের ভঙ্গুর দিকগুলো।

জঁ লুক গোদার জীবনী লিখতে গেলে অনায়াসে চলে আসে তাঁর চলচ্চিত্রের কথা। তাঁর চলচ্চিত্রগুলোও কখনো কখনো তাঁর জীবনকে রূপায়ন করেছে। তাই তাঁর চলচ্চিত্র ও জীবন চলছে যূথবদ্ধভাবে। শুধু কয়েকটি শব্দে আমরা গোদাকে আটকে রাখিনি। আমরা ১০টি পর্বে এই মহান চলচ্চিত্রকারের জীবনীকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। মূল তথ্যগুলো নেওয়া হয়েছে নিউ ওয়েভ ফিল্ম ডটকম থেকে। তাদের কাছে কৃতজ্ঞ এমন সুন্দর একটি বিশ্লেষণধর্মী জীবনী রচনার জন্য।

অধ্যায়: এক

একটি অসাধারণ শৈশব
জঁ লুক গোদা ফ্রান্সের প্যারিসের সপ্তম প্রশাসনিক জেলায় জন্ম। গোদার জন্মের চার বছর পর তাঁর বাবা পল গোদা পরিবারসহ সুইজারল্যান্ডে পাড়ি জমান। পল পেশায় ছিলেন ডাক্তার। গোদার মা ওডিলে মোনোদ ছিলেন সম্পদশালী খ্রিস্টান নারী। তাঁর বাবা জুলিয়ান মোনোদ ছিলেন ফ্রান্সের অন্যতম ব্যাংকার। জুলিয়ানের খুব ভালো সম্পর্ক ছিল সে সময়ের সংস্কৃতিমনা মানুষদের সঙ্গে। বিখ্যাত লেখক পল ভ্যালেরি তাদের মধ্যে অন্যতম। গোদা ছাড়াও পল ও ওডিলে দম্পতির ছিল আরও তিন সন্তান-র‌্যাচেল, ক্লদ ও ভেরোনিক।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভা লেকের তীরে নিয়নে বাস করতে শুরু করে গোদার পরিবার। কাছেই ছিল একটি ক্লিনিক। সেখানেই কাজ জুড়ে দিলেন গোদার বাবা পল। বাবা ক্লিনিকে কাজ করায় এবং মা সম্পদশালী ব্যাংকারের মেয়ে হওয়ায় গোদার শৈশব ছিল সোনায় সোহাগা। পরিবারও ছিল সংস্কৃতিমনস্ক। গোদারের কাছে তাঁর শৈশব ছিল স্বর্গীয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলে এসেছে। পরিবারটি সিদ্ধান্ত নেয়, তাঁরা থেকে যাবে সুইজারল্যান্ডেই। কিন্তু ফ্রান্সে রয়েছে গোদার নানা জুলিয়ান মোনোদের বিশাল সম্পত্তি। তাই মাঝে মাঝেই তাঁরা ঢুঁ মেরে আসত ফ্রান্সে। তরুণ জঁ লুক পড়ুয়া হয়ে উঠেছে। বয়স ১৪ হলে কী হবে। শিশুদের রোমাঞ্চকর সাহিত্যের গুণমুগ্ধ পাঠক সে। অঁদ্রে জিদ ও অঁদ্রে ম্যালোও ছিল জঁ লুকের পছন্দের শীর্ষে। তবে খেলাধুলাও তাঁর প্রিয় ছিল। স্কিড ও টেনিস খেলত। ফুটবলও ছিল প্রিয় খেলা।

বাউন্ডুলে জঁ লুক গোদা
১৯৪৬ সাল। গোদা প্যারিসের লিসি বুফনে চলে যান পড়তে। উচ্চতর গণিতে ভর্তি হন সেখানে। উদ্দেশ্য ছিল প্রকৌশল বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া। কিন্তু গণিতের পাট চুকিয়ে তিনি যুক্ত হয়ে যান সিনে ক্লাবের সঙ্গে। রাত নেই দিন নেই দেখতে থাকেন একের পর এক চলচ্চিত্র। ফলাফল শুন্য। ১৯৪৮ সালে উচ্চতর বিদ্যালয়ে পড়ালেখার জন্য ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি গোদা। ফিরে যান সুইজারল্যান্ডে। সেখানে একটি উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি হন। ফের থাকতে শুরু করেন বাবা মায়ের সঙ্গে। বাবার সঙ্গে সে সময় সম্পর্কটা খুব একটা ভালো কাটেনি। তাই জেনেভার চলচ্চিত্রপ্রিয় মানুষগুলো হয়ে ওঠে গোদার প্রিয় বন্ধু। তাদের সঙ্গেই সময় কাটাতেন তিনি। শুধু তাই নয়, তখন আঁকাআঁকির দিকেও মনযোগটা ঘুরিয়েছিলেন এই চলচ্চিত্রকার।

অবশেষে উচ্চতর পড়ালেখার জন্য ভর্তী পরীক্ষায় তিনি পাশ করেন। ফিরে আসেন প্যারিসে। সরবন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা শুরু করেন ১৯৪৯ সালে। তিনি এথনোলজি নিয়ে পড়ালেখা শুরু করেছিলেন। কিন্তু মাথায় যার সিনেমার পোকা তিনি কি আর অন্যকিছু নিয়ে পড়েন! বাদ দিয়ে দেন এথনোলজি। আবেদন করেন শহরের সেরা ফিল্ম স্কুল ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড সিনেমাটোগ্রাফিক স্টাডিজে। কিন্তু তার আবেদন গৃহীত হয়নি। এবার তিনি ফিল্ম পড়া বাদ দিয়ে সিনেমা দেখা শুরু করেন। যুক্ত হয়ে যান অনরি লঙ্গুয়ার সিনেমাদোকিউ ফ্রাঁসোয়া ও দ্য সিনে ক্লাব কোয়ার্টার ল্যাটিনে। সেখানে তিনি প্রথমবার পরিচিত হন আরও দুজন ফিল্ম পাগল মহান চলচ্চিত্রপ্রাণ মানুষ ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো ও জঁক গিভেত্তের সঙ্গে। শুরু হয় গোদার ফিল্ম নিয়ে পাগলামি। দিনে তিন থেকে চারটি সিনেমা দেখা ছিল এই দলের লোকদের অভ্যাস। কখনো একটি দিন পার করে দিত সিনেমা হলে। গোদা নিজেই এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন পরবর্তীকালে।




 খুঁজুন