চলচ্চিত্র সমালোচনা
এশিয়া   ইরান   দ্য সং অব স্প্যারোজ

 

চলচ্চিত্র: দ্য সং অব স্প্যারোজ
পরিচালক: মাজিদ মাজিদি।
কলাকুশলী:মোহাম্মদ আমির নাজি, মারিয়াম আকবারি, কামরান দেঘান
দেশ: ইরান
সাল: ২০০৮
রেটিং: ৩.৫/৫

 

কৃত্রিম ও সরল জীবনের ছবি

  আবুল হাসান

১৮ নভেম্বর, ২০১৮

করিম। উটপাখির ফার্মের কেয়ারটেকার। ফার্মের দেখাশুনা করা তার দ্বায়িত্ব। গেট খোলা পেয়ে একটি পাখি হঠাৎ বেরিয়ে যায়। অনেক চেষ্টা করেও পাখিটা ধরতে পারে না সে। করিমের চাকরি চলে যায়। রাজধানি তেহরানে ভাড়ায় গাড়ি চালিয়ে সংসার চালায়। ভালোই চলছিল। পুরনো ফার্নিচার সরাতে গিয়ে চাপা পড়ে পা, ভেংগে যায়।

বরাবরের মতই সরল প্লট। তবে মাজিদির সিনেমায় শিশু চরিত্র থাকবে না তা হতেই পারে না। করিমের ছেলে হোসেইন প্রতিবেশীর ছেলেদের সাথে মিলে পরিত্যাক্ত একটি চৌবাচ্চা পরিষ্কার করে। সবাই মিলে টাকা জোগাড় করে মাছ কেনার জন্য। গাড়িতে করে মাছ নিয়ে আসার পথে পাত্র ফেটে সব মাছ রাস্তায় পড়ে যায়। বচ্চাগুলির প্রতি সমবেদনা জাগে করিমের। দর্শকেরও । গানে গানে নিজের অতীতের পর্যালোচনা করে।

দ্য সং অব স্প্যারোজে শহুরে মানুষের কৃত্তিমতা আর গ্রামের সরলতার ছবি এঁকেছেন মাজিদ মাজিদি। ৯৬ মিনিটের ছবিটিতে মাজিদি অসাধারণ কিছু শট নিয়েছেন। একটা শটের জন্য হেলিকপ্টার ব্যাবহার করেছেন। পেশাদার অভিনেতা শুধু করিম (আমির নাজি)। রিলিজ হয় ২০০৮ এ।

ছবিটায় ছোটখাটো কিছু ভুল লক্ষনীয়। যে উটপাখিটি পালিয়ে যায় সেটাকে সিনেমায় (শেষ দৃশ্যে) পুরুষ পাখি হিসেবে দেখানো হয়েছে । আবার সেই পাখিটার ডিম দেখানো হয়েছে। সিনেমায় এটা ফ্যাকচুয়াল এরর। পুরুষ উটপাখি ডিম দেয় না।

করিম শহরে সারাদিন ধরে বাইক চালায়। কিন্তু কখনোই তাকে মটর বাইকে তেল নিতে দেখা যায়নি। এটাও মেকিং এর ভুল। তবে ভিজুয়ালাইজেশনের অসাধরণতায় ছোটখাটো ভুলগুলিকে পাশে সরিয়ে রাখা যায়। বিশেষ করে শেষ সিনে উটপাখির অসাধারণ নৃত্য । ৮-১০ টা বাচ্চা ছেলে টাকা জমিয়ে মাছ কেনে একসাথে। সেই মাছ পাত্র ফেটে যখন রাস্তায় পড়ে যায় ছেলেগুলির তখনকার এক্সপ্রেশন লেখায় প্রকাশযোগ্য নয়, সে শুধু ভিজুয়ালেই সম্ভব। পরিচালক লেখক হলে কিভাবে বলতেন জানিনা তবে ক্যামেরায় বেশ সফলভাবেই তুলে এনেছেন মাজিদি।

তবে একটা ব্যাপার বেশ খটোমটো লেগেছে। তা হল গল্পের শেষটা ভালভাবে করা হয়নি। কেমন ছাড়াছাড়া ভাব। সং অব স্প্যারোজ দেখার পরে গল্পের চেয়েও বেশী নাড়া দেয় ছবির ভিজুয়ালাইজেশন, একথা অবশ্য আরো কয়েকজনে মন্তব্য করেছেন।

আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে সিনেমাটি। বিদেশি ভাষার ছবির ক্যাটাগরিতে ইরান থেকে অস্কারে পাঠানো হয়। এছাড়াও ৭টি আর্ন্তজাতিক প্রতিযোগিতায় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয় এবং ২টি পুরস্কার জেতে।





 খুঁজুন