চলচ্চিত্র সমালোচনা
এশিয়া   বাংলাদেশ   টুমরো

 

চলচ্চিত্র: টুমরো
পরিচালক: মোহাম্মদ শিহাব উদ্দীন
কলাকুশলী (অ্যানিমেশন, কণ্ঠ): দীপক কুমার, এহসান আব্দুল্লাহ, মোহাম্মদ মোর্শেদ সিদ্দিক, রাজু আহমেদ।
দেশ: বাংলাদেশ
সাল: ২০১৯
রেটিং: ৩/৫

 

একটি দরকারি চলচ্চিত্র

  সিনেঘর গল্প বলিয়ে

২৩ ডিসেম্বর, ২০১৯

ভাবতে অবাক লাগছে। এমন একটি সিনেমা মুক্তি পেল। আর সেটি নিয়ে কোনো রা নেই। কত আলতু ফালতু জিনিস নিয়ে গণমাধ্যম নাচানাচি করে। জলবায়ুর মতো এমন প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে অর্থপূর্ণ এই অ্যানিমেশন ছবিটির কথা কোথাও নেই। অথচ ছবিটি দেখে এক কথায়, একটি কথাই বলা যায়, অসাধারণ। মানে গুণে কতটুকু কী হলো? তারচেয়ে বড় কথা এমন ধরনের সিনেমা এই সময়ে দরকারি, খুব দরকারি। একটি নয়, আরও আরও আরও।

জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হব আমরা। এই কথাটি আমরা নিজেরাও বুঝতে চাই না। তাই মনে হয়, ছবিটি নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। অথচ কোন ছবিতে নাকি অনুভূতির লেজ কাটা গেছে এই নিয়ে হাইকোর্টও দেখানো হয়েছে। সে যাই হোক, ছবিটির কথা শুনেছিলাম। দীপ্ত টিভির ইউটিউব চ্যানেলে দেখার পরে মনে হলো, এই ছবিটি বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষের দেখা উচিত, বিশেষ করে শিশুদের। তাই দু চার কথা বলা।

আমরা সব কিছুতে কাঁচা। দেশের বয়স এখনও পঞ্চাশ হয়নি। আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি কাঁচা। পরিচালকেরা কাঁচা। কলাকুশলীরা কাঁচা। অভিনয়শিল্পীরা কাঁচা। আর অ্যানিমেশন? ও কেবল মুকুলটি ঝড়ে ফলটি হলো মাত্র। কাঁচা হওয়ার বয়সও হয়নি। সেখানে এই অ্যানিমেশন ছবি টুমরো কে পিক্সার কিংবা ডিজনির সঙ্গে তুলনা দেওয়া গাধামি ও বলদামি ছাড়া আর কিছুই হবে না। তবে এতটুকু বলতেই হবে। এত এত কাঁচা কাঁচা হাত নিয়ে প্রায় পাকার কাছাকাছি একটা জিনিস তৈরি হয়েছে। এ আমাদের দেশের কাছে সোনার ডিম পাড়া হাঁসের চেয়ে কম নয়।

টুমরো ছবির দৃশ্য। ছবি: দীপ্ত টিভির ইউটিউব থেকে নেওয়া

সুতরাং সিনেমার মান ও কারিগরী দিক নিয়ে অত বুলি না কবচালেও হবে। কারণ এই সিনেমার বিষয়ই একে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ছবির গল্প খুবই সোজা। আপনি, আমি সবাই জানি। এই পৃথিবী দ্রুত হারিয়ে ফেলছে তার বসবাসযোগ্যতা। ক্রমেই বাড়ছে তাপ। গলছে পানি। আর তাতে তলিয়ে যাবে পৃথিবীর নিম্নাঞ্চল। তবে কি এর কোনো সমাধান নেই? আমরা তলিয়ে যাব। এই নিয়তি। নাকি এই আমরা মানুষরাই বদলে দিতে পারি পৃথিবীকে। তাকে আবার ফিরিয়ে আনতে পারি কোমল বাতাস, সুপেয় পানি। এই সহজ কথাটি স্মরণ করিয়ে দিতেই টুমরো ছবি।

তাই আমার কাছে মনে হয়, এই ছবি তার কারিগরি মানকে ছাপিয়ে বিষয়ের গুরুত্বে মহীয়ান হয়ে উঠেছে। কারণ এই সময়ের শেষ কথা, পৃথিবীকে ফিরিয়ে দিতে হবে তার প্রকৃত রূপ। আর ছবিটি সে কথাই বলল কানে কানে।






 খুঁজুন