চলচ্চিত্র সমালোচনা
এশিয়া   ভারত   বাড়িওয়ালি

 

চলচ্চিত্র: বাড়িওয়ালি
পরিচালক: ঋতুপর্ণ ঘোষ
কলাকুশলী: কিরন খের, রূপা গাঙ্গুলি, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী প্রমুখ
দেশ: ভারত
সাল: ২০০০
রেটিং: ৮/১০

 

প্রাপ্য ভালোবাসার কাছে পরাজয়

  মোহাইমিনুল নিয়ন

৩০ মে, ২০২০

সত্যি বলতে এর আগে পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের কোনো ছবি আমি সম্পূর্ণ রুপে দেখিনি। এবার বাড়িওয়ালি ছবিটি দেখার পর তার সবগুলো ছবি দেখার আগ্রহ অনেক বেশি পরিমাণেই তৈরি হয়েছে। যদিও আগে থেকেই জানি বাংলা চলচ্চিত্রে ঋতুপর্ণ ঘোষ এক অপার বিস্ময়ের নাম।

আমি চলচ্চিত্র বোদ্ধা নই। খুব বেশি ছবি দেখার সুযোগও আমার হয়নি। ছবি দেখে মনের মাঝে যা বলতে ইচ্ছে করে ততটুকুই পাঠকদের সঙ্গে শেয়ার করা। আমার মতো অনেকেই হয়তো ছবিটি দেখেননি। তাদের কাছে দেখার লোভ বাড়িয়ে দিতে পারব বলে বিশ্বাস। আর যারা দেখেছেন তাদের মনে হয়তো নতুন কোনো বাড়তি চিন্তাও যোগ হতে পারে।

বাড়িওয়ালি ছবিটি দেখার পর সবার আগে আমার যে কথাটি মনে হয়েছে তা হলো, অথৈ সাগরে পরে মানুষ যেরকম খড়কুটো কিছু একটা ধরে বাঁচতে চায়, এই ছবির প্রধান চরিত্র বনলতা ওরফে কিরন খের যেন ঠিক তাই। বাপ-দাদার সূত্রে জমিদারি বাড়ি পাওয়ায় অর্থনৈতিক অভাব তার কখনোই ছিল না। তবে সব কিছু থেকেও যেন অনেক বেশি অসহায়, নিঃসঙ্গ, দুঃখী এই জমিদার বাড়িওয়ালি বনলতা। বিয়ে হতে হতে গিয়েও না হওয়ার যে কতো কষ্ট তা নিঃসঙ্গ বনলতা ছাড়া কে-ই বা বুঝবে! তাই মন্দির রক্ষক প্রসন্ন যেমন অকপটে বলে বনলতার হতভাগ্যের কথা, তখন আসলে আমাদের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে খুব একটা দাগ কাটে না, যতটা দাগ কাটে যখন নায়িকার সাথে প্রেম এবং অন্যত্র বিয়ে থাকা সত্ত্বেও বনলতা পরিচালক দীপঙ্করের জন্মদিনে পায়েস রান্না ও মন্দিরে পুজোর ব্যবস্থা করে।

বাড়িওয়ালি ছবির দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

ছবির শুটিং এর কথা শুনেই বনলতা যখন চরম ক্রোধে না করে দেয়, সেই বনলতাই আবার পরিচালককে দেখার পর মুখ ফুটে না বলতে পারে না, বরং শুটিং এর জন্য দরকারী সরঞ্জাম দিতে একটুও দ্বিধাবোধ করে না, তখন আর আমাদের বুঝতে বাকি থাকে না, অন্য কিছু নয় একটু ভালোবাসারই কাঙ্গাল বনলতা। একটা চরিত্রের অসহায়ত্ব, নিঃসঙ্গতা যে কতোটা ভয়াবহ হতে পারে তা আমাদের বেশ হাড়ে হাড়েই টের পাইয়েছেন এই নন্দিত নির্মাতা।

যদি বলা হয়, আমার সবচেয়ে ভালো লাগা দৃশ্য কোনটা? তাহলে বলবো, দীপঙ্করের দুঃখ ঘোচাতে বনলতা নিজের বাড়ি ভাড়া মওকুফ করে যে দৃশ্যে। আবার সবচেয়ে কষ্টের জায়গা সেটাই যখন ছবির শেষ মুহূর্তে বনলতা পরিচালকের পাঠানো চেক ছিঁড়ে ফেলে। এ যেন ছবির দৃশ্য থেকে বাদ পড়ার কষ্ট নয়, নিজের প্রাপ্য ভালোবাসার কাছে পরাজিত হওয়া। আর ছবিতে সবার দুর্দান্ত অভিনয় ছবিটিকে পূর্ণতা দিয়েছে।

ছবিটি দেখার পর সবথেকে বেশি আফসোস হচ্ছে কেন আমরা এতো দ্রুত এমন বড় মাপের চলচ্চিত্র নির্মাতাকে হারালাম।

ঋতুপর্ণ ঘোষ। ছবি: ইনস্টাগ্রাম






 খুঁজুন