নাম: ক্যাটরিনা কাইফ
জন্ম: ১৬ জুলাই ১৯৮৩
জন্মস্থান: হংকং
পেশা: মডেল ও অভিনয়শিল্পী

 

পছন্দসই সিনেমা করার এখনই সময়

  সিনেঘর গল্প বলিয়ে

৩১ জানুয়ারি, ২০১৯

সৌন্দর্য্য দিয়ে বলিউডে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ। সঙ্গে আছে দারুণ নাচের যোগ্যতা। কিন্তু অভিনয়ের কথা এলেই যেন একটু মিইয়ে যান তিনি। জিরো ও টাইগার জিন্দা হ্যায় দিয়ে খুব একটা ফিরে আসতে পারেননি। এখন ভরসা সালমান খানের ভারত। আগামী ঈদে ভারত মুক্তি পাবে। নিজের কাজ ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা হলো তাঁর সঙ্গে।

জিরো খুব একটা ভালো করতে পারেনি। কিন্তু আপনার অভিনয় ভক্তরা পছন্দ করেছে...
যা আমাকে খুশি করে তা আমি টানা করে যেতে পারি। পরিচালক আনন্দ এল রাই ও লেখক হিমাংশু শর্মা এমনই একটা চরিত্র সৃষ্টি করেছিলেন। আমি এই চরিত্রটির সঙ্গে প্রায় আড়াই বছর কাটিয়েছি। যখন থেকে তাঁরা চরিত্রটি সম্পর্কে ভেবেছেন এবং আমাকে করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এই পুরো সময়ে বেশ কয়েকবারই আমার মনে হয়েছে, আমি মনে হয় একটানা চরিত্রটি করতে পারব না। যখন পরিচালক আপনার উপর ভরসা রাখেন তখন অনকে কিছুই করা সহজ হয়ে যায়। এটা চরিত্রটি করতে অবশ্যই সাহায্য করে। চরিত্রটি এমনভাবে লেখা হয়েছিল যে আমি এটাকে অন্যভাবে করারও সুযোগ পেয়েছিলাম। সুতরাং এমন একটি চরিত্র আপনার কাছে এলে আপনি লুফে নিবেন এই স্বাভাবিক। চরিত্রটি নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পেলে আপনারও ভালো লাগবে।

এক সময় আপনাকে ভালো অভিনয়শিল্পী হিসেবে ধরা হতো না। আপনি কি এই ধারণা ভাঙতে পারবেন?
একজন অভিনেতার জীবনে উত্থান পতন থাকবে। একটা সময় আসে যখন আপনি প্রশংসা পাবেন, আবার কোনো কোনো সময় আপনি সমালোচিতও হবেন। আমার জন্য সুখবর হলো, মানুষের কাছে চরিত্রটি ভালো লেগেছে। একজন অভিনেতা হিসেবে, দীর্ঘ ক্যারিয়ারের জন্য এই ধরনের পরিবেশে আপনি পড়বেন যেখান থেকে একজন ব্যক্তি হিসেবে আপনার পরিবর্তনগুলো শুরু করতে পারেন। আমি ১৮ বছর বয়সে বলিউডে পা রেখেছি। আমি আগের মতো নেই। অভিজ্ঞতা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার পরিবর্তনও হয়েছে। জ্ঞান, লেগে থাকার মানসিকতা ও অভিজ্ঞতা আপনাকে নিয়ে যাবে অন্যমাত্রায়। আনন্দ স্যার ও হিমাংশু এটাই ছবিটিতে করেছেন। তাঁরা আমাকে এটি করতে সুযোগ দিয়েছেন। এটা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে, জিরো সিনেমা আমাকে একটি পারফরম্যান্স দেখানোর সুযোগ করে দিয়েছে।


আপনি কি মনে করেন, মানুষেরা এখন থেকে আপনাকে একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে দেখা শুরু করবে?
আমি মনে করি একজন পরফরমার হিসেবে প্রত্যেকেরই ক্যারিয়ারের নিজস্ব রাস্তা আছে। এখন আমি অনেক বেশি আশাবাদী আমার সিনেমাগুলো নিয়ে। সেটা জিরো কিংবা আসন্ন ভারত হোক। আমি অবশ্য প্রচুর রোমাঞ্চকর কনটেন্ট এ কাজ করতে আগ্রহী। এর মধ্যে আমি অনেক কনটেন্ট পড়েছি। কিছু আমাকে টানে না। কিছু কনটেন্ট থেকে আমি ভীষণ অনুপ্রেরণা পাই। এবং কাজটি করি। অনেক কিছুই আছে যা আমাকে খুশি করতে পারে। যেকোনো কিছু ঘটার জন্য আপনার অপেক্ষা করার দরকার নাই। আপনার উন্নতির জন্য নানা ধরনের আইডিয়া নিয়ে আপনি কাজ শুরু করতে পারেন। আমি অবশ্য নির্দিষ্ট কিছু লেখদের সঙ্গে কাজ করি। যাদেরকে আমার খুব বিশ্বস্ত মনে হয়। আমি একটি ফরাসি সিনেমা দিয়ে শুরু করেছিলাম। তখন ২০০২ সাল। দিবাকর ব্যানার্জি এবং আমি পরিকল্পনা করেছিলাম। অনেক পরিচালক আছেন যারা আপনাকে আপনার পছন্দসই সিনেমার জন্য প্রস্তাব দেবেন। সুতরাং যে সিনেমাগুলোর সঙ্গে আমার পছন্দ সেগুলো নিয়ে কাজ করারই এখন সময়।

মাঝে মাঝে আপনি পছন্দ করেননি কিন্তু আপনার সিনেমা বক্স অফিসে সফল হয়, আবার যেটি আপনি পছন্দ করেছেন সেটি বক্স অফিসে মার খায়। কোন বিষয়টি আপনি তুলে ধরতে চান?
আমি মনে করি, সিনেমা পছন্দ করার ক্ষেত্রে আপনার একটি ভারসাম্য রাখতে হবে। কিছু চরিত্র আছে যেগুলো নিয়ে আপনি ব্যক্তিগতভাবে রোমঞ্চিত। কখনো চরিত্র নয়, সিনেমাটি ভালো হয়। সবচেয়ে ভালো হয়, যদি চরিত্র ও সিনেমা উভয়টাই আপনার পছন্দ হয়।

নারী কেন্দ্রীক সিনেমায় কি মনে হয়, আপনি একা?
আমি সবসময় আমার কাছে আসা নারী কেন্দ্রীক গল্পগুলো শুনেছি। কিন্ত আমি কখনোই গল্প ও চরিত্রের সমন্বয়ে অসাধারণ স্ক্রিপ্ট পাইনি। কখনো আমার চরিত্রটি ভালো লেগেছে তো কখনো গল্প ভালো লেগেছে। সুতরাং আমি নারী ও পুরুষ দুজনের গল্পই নিয়েছি, যেখানে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী থাকা যায়। আমি যখন কোনো সিনেমার প্রস্তাব গ্রহণ করি, তখন সিনেমার সকল দিক বিবেচনা করে প্রস্তাব গ্রহণ করি। গল্প, চরিত্র সবকিছু। আমি চাই, সিনেমাতে সবকিছু একসঙ্গে ঠিকঠাক থাকতে হবে।


ভারত শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন?
যেদিন থেকে সিনেমাটির চরিত্রটির জন্য আমি প্রস্তুতি শুরু করেছি সেদিন থেকেই এই সিনেমায় অভিনয় ছিল সত্যিকারের অনুপ্রেরণাদায়ী, রোমাঞ্চকর, চ্যালেঞ্জিং ও দারুণ এক অভিজ্ঞতা। এখান থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। শুটিংয়ের সময় অনেকগুলো মুহূর্তের আমি সাক্ষী যেগুলো আমার কাছে অক্ষয় হয়ে থাকবে। এখন শেষের দিকের কাজ চলছে। আমি সম্পূর্ণভাবে সেদিকে মনযোগ দিতে চাই। মুম্বাই শহরে শুটিং হলে আপনার শুটিংয়ে ব্যাঘাত ঘটবেই। মানুষ নানাভাবে শুটিংয়ের ক্ষতি করে।

এই ছবির সঙ্গে আপনার নাম অনেক আগেই শোনা গিয়েছিল। কিন্তু যখন প্রিয়াঙ্কা সিনেমাটি থেকে চলে গেল তখনই আপনি এলেন?
পরিচালক আলী আব্বাস জাফর ও আমি বন্ধু। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে আমরা কখনোই আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে টেনে আনি না। ও আসলে আমাকে স্ক্রিপ্টটি পাঠায়। আমি পড়ে দেখি এখানে অসাধারণ ও ভিন্ন ধরনের কিছু কাজ করার সুযোগ আছে। আমি গল্পটি পছন্দ করেছি তাই আমি হ্যা বলে দিয়েছি।

ভারত এর জন্য আপনি এবিসিডি থ্রি সিনেমা থেকে সরে দাঁড়ালেন?
ভারত করার সময়ে আরেকটি সিনেমা করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমরা ঈদেই ভারত মুক্তি দেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছি। এটা সিনেমাটির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এই সময় অন্য সিনেমাতে সময় দিলে সমস্যা দেখা দিত। এ কারণে ছেড়ে দিয়েছি।

গুঞ্জন ছড়াচ্ছে আপনি মহেশ বাবুর সঙ্গে দক্ষিণী সিনেমায় অভিনয় করবেন?
ভারত এর পর আমি কোনো সিনেমায়ই এখনো স্বাক্ষর করিনি। আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলব, না এমন কোনো প্রস্তাব এখনো পাইনি।

সাক্ষাতকার: নয়নদ্বীপ রক্ষিত
সূত্র: ডিএনএ ইন্ডিয়া





 খুঁজুন