সিনে সমাচার

গাড়িওয়ালা সেই রূপান্তরিত হওয়ার গল্প 

  সিনেঘর ওয়েব দল

১২ নভেম্বর, ২০১৮
গাড়িওয়ালার গল্প শুরু হয় হাবিল-কাবিল নামে দুই ভাইকে নিয়ে। তাদের সঙ্গে নির্মাতা তুলে নিয়েছেন গ্রাম-বাংলার অপরূপ প্রকৃতিও। যেখানে ফড়িং ওড়ে, সূর্যমুখী খেতের মাঝখানের আইল ধরে দৌড়ে যেতে পারে দুরন্ত শিশুরা, যেখানে ক্রমাগত স্বপ্নবাজ হয়ে ওঠার গল্প তৈরি হয়। সেই হাবিল-কাবিল এমনই এক গ্রামে ছুটে বেড়ায় ক্রমাগত।

তাদের মা চরিত্রে অভিনয় করেছে রোকেয়া প্রাচী। স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে মানসিক এবং শারীরিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত হাবিল-কাবিলের মা। সারাদিনের পরিশ্রম শেষে গ্রামের মানুষের কু-দৃষ্টি দর্শককে এই বাস্তব সমাজের চিত্রই দেখাবে। কার‌ণ, এই সমাজে নারী বড় অসহায়। আর তার একা থাকার সুযোগ নেয় কিছু লোলুপ পুরুষ। সেই পুরুষদের কামুক চাহনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গেই পরিবেশন করেছেন পরিচালক। যেখানে অশ্লীলতা নেই, ইশারা ইঙ্গিতেই তিনি বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছেন দর্শকদের।

হাবিল-কাবিলের মূল স্বপ্ন একটি বেয়ারিংয়ের গাড়ির মালিক হওয়ার। সেই স্বপ্নে তাদের ঘুম হয় না। তার আগে হাবিল তার ছোট ভাইকেই বলে, আমাদেরও বেয়ারিংয়ের গাড়ি হবে। দুরন্ত শৈশব কখনও হার মানে না। হাবিল-কাবিল হার মানেনি। অন্যের মতো রডের তৈরি কিংবা শক্ত কাঠের তৈরি গাড়ি হয়তো তারা তৈরি করতে পারেনি কিন্তু গাছের ডাল দিয়ে, পুকুরের শাপলা বিক্রি করে সত্যি-সত্যিই বেয়ারিং কিনে তারা ঠিকই গাড়ি তৈরি করে ফেলে। এর নামই তো স্বপ্ন। এর নামই তো শৈশবের দুরন্তপনা।

একটি দৃশ্যে রোকেয়া প্রাচী

এই দুই শিশুর মধ্যে দারিদ্র নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই। শুধু আক্ষেপ- বাবার নিখোঁজ সংবাদ। যে অবহেলা-অনাদরের মধ্যে তারা বেড়ে উঠছে, সেখানে বাবা থাকলে হয়তো এমন হতো না, এমনই ভাবনা তাদের। এভাবেই গল্প এগোয়। গল্প কোথায় যাবে, কেউ জানে না। দর্শকও জানবে না। গল্পের ভেতর দিয়ে মায়ের অসুস্থতার সময় হাবিল হয়ে ওঠে দায়িত্ববান পুরুষ। গোপন কষ্ট বুকে চেপে, নিজের মধ্যে রেখে দেওয়ার মধ্যেই একজন শিশু যেন পরিণত হয়ে উঠল। এমনই বার্তা দিয়ে গেছে পর্দার গাড়িওয়ালা। জীবনের গাড়ি সম্পর্কে যেই শিশুর বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না, সেই শিশু কষ্টকে আরও না বাড়ানোর দায়িত্ব নিয়ে চালকের আসনেই বসে পড়ে। এখানে শেষ হয় গল্প। তবু থেকে যায় তার রেশ।





আরও দেখুন

 খুঁজুন