সিনে সমাচার

পর্দায় মহাশ্বেতা দেবী, অভিনয়ে গার্গী 

  সিনেঘর ওয়েব দল

১৪ মার্চ, ২০২০
মহাশ্বেতা দেবী ও গার্গী রায় চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় উপমহাদেশে মহাশ্বেতা দেবী একটি পূজণীয় নাম। কি সাহিত্যিক হিসেবে কি জীবনবাদী মানুষ হিসেবে। অবহেলিত পাহাড়ী মানুষের সংগ্রাম লড়াইয়ে ছিলেন অগ্রজজন। সেই মহাশ্বেতা দেবী আসছেন রূপালি পর্দায়। তাঁকে পর্দায় রূপ দেবেন কলকাতার অভিনেত্রী গার্গী রায় চৌধুরী। ছবির নাম মহানন্দা

কলকাতার গণমাধ্যম আজকাল এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন করে। সেখানে পরিচালক অরিন্দম শীলকে ছবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি হ্যাঁ বলেছেন। ওই পত্রিকাকে অরিন্দম বলেন, মহাশ্বেতা দেবীর জীবন ও কাজ থেকে অনুপ্রাণিত ছবি মহানন্দা। জন্ম এবং মৃত্যুর মধ্যে আবদ্ধ নন মহাশ্বেতা দেবী। সন-তারিখের তথ্যেও তিনি আবদ্ধ নন। মহাশ্বেতা দেবী একটা আন্দোলন। একটা জীবন-ভর আন্দোলনের নাম মহাশ্বেতা দেবী, যার বহমানতা আছে।

অরিন্দম আরও বলেন, মহাশ্বেতা দেবীর মতোই জীবন আমার মহানন্দার। বলতে পারেন, একটা অদ্ভুত মিল আছে দুজনের। হ্যাঁ, অবশ্যই এই মহানন্দা সর্বতোভাবে মহাশ্বেতা দেবীর জীবন ও কাজ দ্বারা অনুপ্রাণিত। ঠিক যেমন আমার এই ছবিতে তরুণ প্রজন্মের আর একটি মেয়ে মহানন্দার কাজে, আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়।

মহাশ্বেতা দেবী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করা হয়েছে মহানন্দা চরিত্রটি। সেখানে গার্গী রায় চৌধুরীকে পরিচালক অরিন্দমই পছন্দ করেছেন। গাগীকে নিয়ে বললেন, এই চরিত্রের জন্যে গার্গীকেই আমার যুতসই মনে হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন গার্গী। আদিবাসী-প্রধান অঞ্চলেও যাতায়াত শুরু করবেন গার্গী। শিখবেন সাঁওতালি ভাষাও।

গার্গী রায় চৌধুরী। ছবি: ফেসবুক

অরিন্দম শীল জানান, মহানন্দা ছবিটি করতে তাঁকে অনুপ্রাণীত করেছেন আজকাল পত্রিকার সম্পাদক অশোক দাশগুপ্ত। তিনি খুব কাছ থেকে মহাশ্বেতা দেবীকে দেখেছেন। পরিচালক অশোক দাশগুপ্তের কাছ থেকে মহাশ্বেতা দেবীর জীবন ও কাজ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভাবনাও পেয়েছেন।

অরিন্দম বলেন, অশোকদা মনে করছেন আমি এই ছবিটি ভাল করতে পারি। এটাও আমার বিরাট প্রাপ্তি।
ছবিটি হতে যাচ্ছে খুবই রাজনৈতিক একটি চলচ্চিত্র। এদিকে মহানন্দা চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়ে রোমাঞ্চিত ও উদ্দীপ্ত গার্গী রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, আমার অভিনয় জীবনে এটা অবশ্যই সবচেয়ে বড় একটি চ্যালেঞ্জ। তিনি শুধু সাহিত্যিক নন, নিজেই একটি আন্দোলন এবং যিনি এখনও মানুষের মনে ভীষণভাবে জীবন্ত, তাকে অভিনয়ে ফুটিয়ে তোলা যে বিরাট চ্যালেঞ্জ, তা আমি জানি।

ইতিমধ্যে গার্গী চরিত্রের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছেন। এমনিতিই পড়া আছে মহাশ্বেতা দেবী সম্পর্কে। তাঁর সাহিত্য পড়েছেন। নতুন করে তাঁর অনেক লেখা পড়ছেন। তাঁর কাজ সম্পর্কে জানছেন। ইতিমধ্যে সাঁওতালি ভাষাও শিখতে শুরু করেছেন গার্গী।

তিনি জানান, এরপরই আদিবাসী প্রধান অঞ্চলে যাবেন এবং তাঁদের সঙ্গে কথা বলবেন, সময় কাটাবেন।
এই ছবির প্রযোজক ফিরদৌসুল হাসান ও প্রবাল হালদারের ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন। ছবিটির গল্প ভাবনা অরিন্দম শীলের। চিত্রনাট্য লিখছেন শুভেন্দু দাশমুন্সি। সঙ্গীত বিক্রম ঘোষের। অন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন ঈশা সাহা ও গৌরব চক্রবর্তী।






আরও দেখুন

 খুঁজুন