সিনে সমাচার

কে ছিলেন সেই রুবি রায়? 

  সিনেঘর ওয়েব দল

৩ জুলাই, ২০২০
মনে পড়ে রুবি রায় গানটি নিয়ে তৈরি হয়েছে নাটক, সেখানে অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম ও রিচি সোলায়মান। ছবি: সংগৃহীত

মনে পড়ে রুবি রায়, কবিতায় তোমাকে একদিন কত করে ডেকেছি/ আজ হায় রুবি রায়, ডেকে বলো আমাকে, তোমাকে কোথায় যেন দেখেছি…।

গানটি প্রথম প্রকাশ পেয়েছিল পঞ্চাশ বছরেরও আগে। সেই যে বাঙালির প্রাণ ছুঁয়ে গেল, আজও মনের মধ্যে গেঁথে আছে গানটি। দিন চলে যায়, আসে নতুন গান, কিন্তু চিরায়ত এই গানের আবেদন যেন কমেই না। বরং ক্রম বেড়ে চলে। কিন্তু কে এই রুবি রায় এটি যেন গানপাগল মানুষের অন্তিম জিজ্ঞাসা। গানটি যেমন প্রাণ ছুঁয়ে যায়, তেমনি জানতে ইচ্ছে করে রুবি রায়কে নিয়েও, কখনো এক ঝলক দেখতেও, অন্তত ছবিতে। গানটির সুরকার ও গায়ক রাহুল দেব বর্মণের জন্মদিন আজ। এমন দিনেই চিনে আসা যাক গানের সেই রুবি রায়কে।

গানটির সুর ও সংগীতস্রষ্টা রাহুল দেব বর্মন। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

বলে রাখা ভালো। এ বাংলা গানটি কিন্তু কোনো সিনেমার গান নয়। তবে এই গান রিমেক করে বলিউড তৈরি করেছিল মেরি ভিগি ভিগি সি গানটি। অনামিকা সিনেমায় সেটা ব্যবহার হয়েছিল।

১৯৭৩ সালে সঞ্জীব কুমার ও জয়া ভাদুড়ী এই সিনেমাতে অভিনয় করেন। মজরুহ সুলতানপুরির কথায় রাহুল দেব বর্মণই তৈরি করেছিলেন গানটি। সুরও ছিল এক। তো চলুন যাওয়া যাক রুবি রায়ের খোঁজে।

তখন রাহুল দেব বর্মন সংগীতের অনবদ্য নাম। সিনেমার গানে নিজেকে তুলে ধরেছেন অন্য উচ্চতায়। এবার শখ জাগলো পূজায় তিনি বের করবেন একটি অ্যালবাম। কারণ তখন পূজাই ছিল বাঙালির নতুন গান পাওয়ার মোক্ষম উতসব। সংগীতশিল্পীরাও অপেক্ষা করতেন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের।

অনামিকা সিনেমার মেরি ভিগি ভিগি সি গানের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

কী গান করা যায়? ভাবছেন আর ডি বর্মন। অবশেষে উত্তর পেলেন। গানের লিরিকের জন্য তিনি চলে গেলেন বন্ধু শচীন ভৌমিকের কাছে। শচীন তখন বলিউড ছবির গল্প ও চিত্রনাট্য লিখে একেবারে জয়জয়কার অবস্থা। দম ফেলবার ফুসরতটি নেই। অসংখ্যা সব ছবির চিত্রনাট্য তিনি করেছেন। ষাটের দশকে ‘আরাধনা’, ‘ব্রহ্মচারী’, ‘অ্যান ইভনিং ইন প্যারিস’, সত্তরের দশকে ‘ক্যারাভান’, ‘হাম কিসিসে কম নেহি’, ‘গোলমাল’, আশির দশকে ‘কর্জ’, ‘বেমিসাল’, ‘কর্মা’ আর নব্বইয়ে ‘ম্যায় খিলাড়ি তু আনাড়ি’, ‘কোয়লা’, ‘সোলজার’। এরপর এই শতকের প্রথম দিকে ‘কোই মিল গায়া’ কিংবা ‘কৃশ’। কোন ছবিটিকে ফেলবেন? তো এমন ব্যস্ত চিত্রনাট্যকারের সময় দেওয়টা কঠিন। তবু বন্ধ বলে কথা কথা রাখলেন শচীন।

সংগীতের কিংবদন্তী জুটি আশা ভোঁসলে ও আর ডি বর্মন। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

মুম্বাইয়ে তখন একাধিক ছবির চিত্রনাট্য লেখার কাজে ব্যস্ত থাকায় শচীন বছরখানেক সময় পাননি বন্ধু পঞ্চমের অনুরোধ রাখার। সময় পেলেন ১৯৬৯ সালে। আর লিখে ফেললেন জগতবিখ্যাত এই গান ‘মনে পড়ে রুবি রায়’। এরপর সুর দিলেন এবং গাইলেন রাহুল দেব বর্মণ স্বয়ং। বাকিটা শুধুই ইতিহাস।

‘রুবি রায়’ গানটির এমন আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার পর গানটি নিয়ে কম সাক্ষাতকার দিতে হয়নি শচীন ভৌমিককে। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এ গানের প্রেরণা কোথা থেকে তিনি পেলেন? তখন শচীন জানিয়েছিলেন, তাঁর নিজের জীবনের ব্যর্থ কিশোরপ্রেমের স্মৃতিকে মাথায় রেখেই এই গানের জন্ম। যাঁকে ভালবেসেছিলেন কিশোরবেলায়, এবং প্রতিদানে পেয়েছিলেন প্রত্যাখ্যান, তাঁর নাম প্রকাশ্যে আনতে চাননি। তাই নামটা বদলে রেখে দিলেন ‘রুবি রায়’। ভুলতে-না-পারা ওই প্রথম প্রেমের ক্ষতই এ গানের প্রসূতি ঘর।






আরও দেখুন

 খুঁজুন