সিনে সমাচার

হারিয়ে যেতে পারে সিনেমা হল 

  সিনেঘর ওয়েব দল

৯ অক্টোবর, ২০২০
ওয়ান্ডার ওম্যান চরিত্রে গাল গ্যাদত। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

গত কয়েক বছর থেকেই বিনোদন জগতে রাজত্ব শুরু করেছে অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো। বিভিন্ন দেশে সিঙ্গেল স্ক্রিন অর্থাত সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সিনেপ্লেক্স বাড়লেও সিনেমা হল নিয়ে মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। আর গত জানুয়ারির পর থেকে করোনার কারণে সিনেমা হলের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে যায়। দীর্ঘ ছয় মাস বন্ধে মানুষ সিনেমা হলে যাওয়ার অভ্যাসটাই ভুলে গেছে।

তাই হলিউড পরিচালিক প্যাটি জেনকিন্স আশঙ্কা করেছেন যে, সামনের দিকে হয়তো মানুষ সিনেমা হলে যাওয়ার অভ্যাসটাই ভুলে যাবে। আর যে নতুন প্রজন্ম গড়ে উঠছে তাঁদের কাছে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখার আগ্রহ কতটুকু হবে? তাও প্রশ্ন হিসেবে দাঁড়িয়েছে।


ওয়ান্ডার ওম্যান ছবি দেখার পরে দর্শকের সঙ্গে পরিচালক প্যাটি জেনকিন্স ও অভিনেত্রী গাল গ্যাদত। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

ওয়ান্ডার ওম্যান ছবির এই পরিচালক এমনটাই জানালেন আমেরিকান গণমাধ্যমকে। হলিউডের সিনেমার বাজারে এমনিতেই নেমেছে ধ্বস। বারবার বড় বাজেটের ছবিগুলো তাদের মুক্তির তারিখ পেছাচ্ছে। ওয়ান্ডার উইম্যান ছবির পরবর্তী কিস্তি ওয়ান্ডার উইম্যান ১৯৮৪-ও মুক্তির তারিখ তিনবার পিছিয়ে গেছে।

তাই ছবির পরিচালক প্যাটি জেনকিন্স আশঙ্কা করছেন, এক সময় হয়তো সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখার বিষয়টাই আর থাকবে না।

হলিউডের বাজারের অবস্থা এতটাই নাজুক যে, পরিচালক ও প্রযোজকেরা সরকারের কাছে প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। শুধু তাই নয়, তাঁরা মার্কিন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে। যাতে এই সিনেমা শিল্পকে বাঁচানো যায়। শুধু তাই নয়, প্যাটি মনে করেন, এই প্রণোদনা ও আর্থিক সহযোগিতা ছাড়া শত বছরের পুরানো সিনেমার ঐতিহ্য আমেরিকার সংস্কৃতি থেকেই হয়ত হারিয়ে যাবে।


গাল গ্যাদত। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসায় থেকে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেনকিন্স বলেন, আমরা যদি এটা বন্ধ করে দেই তবে সেটা আর হয়ত ফিরিয়ে আনা যাবে না। আমরা হয়ত সারা জীবনের জন্য হলে যাওয়ার অভ্যাসটিই হারিয়ে ফেলব।

সংকট দিন দিন বেড়েই চলছে হলিউডে। যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব থিয়েটার ঔনার্স জানিয়েছে, প্রায় ৬৯ শতাংশ ছোট ও মাঝারি সিনেমা হলগুলোকে হয়ত জোর করে বন্ধ করে দিতে হবে। নয়ত দেউলিয়া হয়ে যাবে।

এসব কারণে জেনকিন্সের ভাষ্য, এইভাবে হল বন্ধ হতে থাকলে পরিচালক ও প্রযোজকেরা বড় বাজেট দিয়ে সিনেমা হলের জন্য সিনেমা বানাবেন না। বরং সরাসরি স্ট্রিমিং সাইটের জন্যই সিনেমা বানাবেন। ধীরে ধীরে সবাই স্ট্রিমিং সাইটের দিকে ঝুঁকে যাবে।

তবে সিনেমা হলে সিনেমা দেখার স্বাদ যে ভিন্ন সে কথাটিও উল্লেখে করেছেন এই পরিচালক। তিনি মনে করেন, ওয়ান্ডার ওম্যান-এর মতো বড় বাজেটের ছবিগুলো ওটিটির জন্য উপযুক্ত নয়। আর সবাই মিলে বড় পর্দায় ছবি দেখার যে আনন্দ তা থেকেও বঞ্চিত হবেন দর্শকেরা।

জেনকিন্স বলেন, আমি চাই না, আমাদের সন্তানেরা একদিন সিনেমা দেখার জন্য শুধু বসার ঘরেই যাওয়ার জায়গা থাকবে। এমনকি প্রিয় মানুষকে নিয়েও সিনেমা দেখতে যাওয়ার জায়গা থাকবে না।


বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে গাল গ্যাদত অভিনীত ওয়ান্ডার উইম্যান ১৯৮৪ ছবির মুক্তি। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

টেনেটে এর মতো ছবি এই সময়ে সিনেমা হলে মুক্তি দিয়েও খুব একটা লাভ করতে পারেনি। যদিও মুলান সিনেমা হলের পরিবর্তে স্ট্রিমিং সাইটেই মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জেনকিন্স ওয়ান্ডার ওম্যান ১৯৮৪ ছবিটি স্ট্রিমিং সাইটে মুক্তি দিতে নারাজ। কারণ ওয়ান্ডার ওম্যান ছবিটি বিশ্বজুড়ে ৮২ কোটি ২০ লক্ষ মার্কিন ডলার ব্যবসা করেছিল।

ওয়ান্ডার উইম্যান ১৯৮৪ ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন গাল গ্যাদোত। ছবিটি বড়দিন উপলক্ষে ডিসেম্বর মাসে মুক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে জেনকিন্স আশাবাদী। কারণ মহামারীর পরিস্থিতি দিন দিন উন্নতি হচ্ছে। তিনি আশা করছেন, ছবিটি সিনেমা হলেই দেখতে পারবেন দর্শকেরা।





 খুঁজুন