সিনে সমাচার

মূলভাবনায় পিছিয়ে নির্মাণে এগিয়ে 

  সিনেঘর ওয়েব দল

১৪ ডিসেম্বর, ২০২০
টেনেট ছবির দৃশ্য।

টেনেট সিনেমা রিভিউ
লেখক: মারুফ ইমন


রেটিং: ৩.৫/৫
চিত্রনাট্য ও পরিচালনা: ক্রিস্টোফার নোলান
প্রযোজনা: এমা থমাস, ক্রিস্টোফার নোলান
পরিবেশনা: ওয়ার্নার ব্রোস, সিনকপি
অভিনয়: জন ডেভিড ওয়াশিংটন, রবার্ট প্যাটিনসন, এলিজাবেথ ডেবিকি, ডিম্পল কাপাডিয়া, মিচেল কেইন, কেনেথ ব্রানাগ।
সংগীত: লুদভিগ ইয়োরানসন
সিনেমেটোগ্রাফি: হয়েট ভ্যান হয়েটমা
সম্পাদনা: জেনিফার লেম
প্রথম মুক্তি: ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

প্রাককথা :
ক্রিস্টোফার নোলানকে বলা হয় ‘সিনেমার আইনস্টাইন’। তাঁর নির্মিত কাজ বছর বছর আসে না, গড়ে দু বছরে একটা আসে। মুক্তির হিসেবে তাই বাইশ বছরের সিনেমা জীবনে নোলানের নির্মাণ ১১টি সিনেমা। তবে ‘টেনেট’ সিনেমার মুক্তি আর আলোচনা হয়তো এর আগে নোলান কখনো ‘উপভোগ’ করেননি। একদিকে ‘করোনা মহামারী’ আর অন্যদিকে সঠিক সময়ে সিনেমার পরিবেশনার চাপ সামলে ‘টেনেট’ অবশেষে আগস্টে মুক্তি পায় যুক্তরাজ্যে, পরের মাসে যুক্তরাষ্ট্রে। ভারতসহ বহু সিনেমাপ্রেমীদের দেশে ‘টেনেট’ এখনো বড়পর্দায় অধরা হয়ে আছে। তবে বাংলাদেশে অক্টোবরের মাঝামাঝি হল খুলে দেয়ায় ২৩তারিখ থেকেই স্টার সিনেপ্লেক্স ‘টেনেট’ প্রদর্শন শুরু করে।

ব্যক্তিগতভাবে এই প্রথম চরম উত্তজেনা নিয়ে নোলানের কোন সিনেমা হলে গিয়ে দেখা হলো। এর আগে তাঁর সব ছবি ছোটপর্দায় দেখা হলেও ‘টেনেট’ বড়পর্দায় অভাবনীয় স্বাদ এনে দিল পুরো আড়াইঘন্টা।

গল্প :
সিনেমার শুরুতেই কিয়েভের ন্যাশনাল অপেরায় অনুষ্ঠান চলাকালে একদল মুখোশ পরিহিত লোক হামলা করে, ভাংচুর করে উত্তজেনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। উপস্থিত দর্শকেরা হতভম্ব হয়ে যান। তবে কিছুক্ষণ পরেই বোঝা যায় আক্রমণকারীরা কিছু চুরি করতে এসেছে। এরা আসলে টাইম ট্রাভেল করে ভবিষ্যত থেকে আসা লোক। এদের প্রতিহত করতে সিআইএর একটি দলকে পাঠানো হয়। তারা দর্শকদের প্রথমে মিলনায়তনে বাতাস ঢুকিয়ে অজ্ঞান করে, তারপর আক্রমণকারীদের সাথে লড়াইয়ে নামে। সিআইএর এই দলেই থাকে সিনেমার প্রোটাগনিস্ট তথা কেন্দ্রীয় চরিত্র, অভিনয় করেছেন জন ডেভিড ওয়াশিংটন। তবে জনের সেখানে আরেকটি উদ্দেশ্য ছিলো। জন একসময় শত্রুপক্ষের সামনে পড়ে গেলে অন্য একজন লাল ফিতে বাধা ব্যাগওয়ালা তাকে বাঁচায়। শেষপর্যন্ত জন ধরা পড়ে শত্রুদের হাতে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে গোপন তথ্য না জানালে তাকে মেরে ফেলার জন্য রেললাইনে নিয়ে যায় শত্রুপক্ষ। জন এবার সিআইএর স্বার্থের কথা বিবেচনা করে গোপন ক্যাপসুল খেয়ে মরে যেতে চায়। তবে সে বেঁচে যায়, নিজেকে আবিষ্কার করে অথই জলের মাঝে এক জাহাজে। সে জানতে পারে ওই হামলায় তাকে পরীক্ষা করা হচ্ছিলো যে বড় একটি অপারেশনের জন্য তৈরি কি না।

টেনেট ছবির দৃশ্য।

জন এবার ‘টেনেট‘ নামে একটি অপারেশনে যুক্ত হয়। টেনেট হলো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ রুখতে সিআইএর একটি গোপন অপারেশনের ইঙ্গিত। জন একজন বিজ্ঞানীর কাছে এন্ট্রপি আর ইনভার্স টাইমিং সম্পর্কে ধারনা নেয়। এখানে বলে নেই, পদার্থবিজ্ঞানে সময়ের সামনে যাওয়া ও পেছনে ফিরে আসার একই অর্থ নিয়ে এন্ট্রপি ধারনা দেয়। তো জন সেখানে যে বুলেটের মাধ্যমে ধারনা পায় সে প্রথমে খোঁজ করে সেই অস্ত্রের ডিলারের। সে দেখা পায় নীলের (প্যাটিনসন) এবং তাকে নিয়ে সে মুখোমুখি হয় আর্মস ডিলার প্রিয়ার (ডিম্পল)। তার সূত্র ধরে সে জানতে পারে এই অস্ত্রে আগে টাইম ইনভার্সন যুক্ত ছিল না, সেটি পরে রাশিয়ান ডিলার সাতর কনভার্ট করে নিয়েছে। কারন সাতর হলো ভবিষ্যতে যারা চায় পৃথিবী উল্টো দিকে চলা শুরু করুক, সেই দলের বর্তমানের প্রতিনিধি। জন এবার নীল কে সাথে নিয়ে সাতরের পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে চায়। সেই পথচলায় ঘটনাচক্রে যুক্ত হয় সাতরের স্ত্রী ক্যাট। এভাবেই এগোয় সিনেমার গল্প, রেখে যায় অনেক প্রশ্ন।

ব্যাখ্যা:
সিনেমার গল্প শুনে তেমন কিছুই বোঝা যায় না, যেমনটা হলে পুরো সিনেমা দেখেও আমার ক্ষেত্রে হয়েছে। সিনেমায় জনকে যে বিজ্ঞানী ইনভারশন বুলেট নিয়ে বোঝায় সেও বলে, "Don‘t try to understand, feel it." তবে বিদেশী ফিল্ম ক্রিটিকদের লেখা ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ পড়াশুনা করে অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছি। TENET শিরোনামটিতেই আপনি দেখবেন সামনে থেকে পেছনে বা উল্টোকরে যেভাবেই পড়া হোক শব্দটি একই থাকে। ঠিক পেলিন্ড্রোম এই জিনিসটি আমাদের পৃথিবীর সময়ের জন্যও সত্য। নোলান এই শব্দটির উৎস আবিষ্কার করেন স্যাটার স্কয়ার থেকে। এটি পম্পেইয়ের ধ্বংসাবশেষে ছিল যা ইতালি, ইংল্যান্ড এবং সিরিয়ায় পাওয়া গেছে। ফিল্মটির একেবারে কাঠামো হ‘ল একটি প্যালিনড্রোম এবং অক্ষরগুলি কেবল সময়ের উত্সকে রূপান্তর করতে । নোলান ছবির এই স্কয়ার থেকেই সিনেমার অনেক নাম নিয়েছেন ইচ্ছে করেই।

Sator: রাশিয়ান ভিলেনের নাম, শব্দের অর্থ "বীজ", যা আন্ড্রেই স্যাটার আক্ষরিক অর্থেই পৃথিবী ধ্বংস করার জন্য কিয়ামত দিবসের যন্ত্রাংশ বীজ করে যা করে।

Arepo: কায়েসের গোয়া পেইন্টিং কেনার সাথে জড়িত, অদৃশ্য আর্ট ডিলারের জন্য ব্যবহৃত।

Tenet: লাতিন ভাষায় এর অর্থ মাস্টার, সংরক্ষণ, টিকিয়ে রাখা। ফিল্মে, এটি এমন একটি কোডওয়ার্ড।

Opera: "অপাস" শব্দটি থেকে উদ্ভূত, এর অর্থ কাজ বা শ্রম, যেখানে শুরুতেই হামলা হয়।

Rotas: এর অর্থ ঘুরিয়ে দেওয়া বা ঘোরানো, যা টেনেটে সময় বিপরীতমুখী মেশিনটি কীভাবে কাজ করে। রোটাস ভিলেন স্যাটোরের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম।

এছাড়া রবার্ট প্যাটিনসনের রহস্যময় চরিত্রের অবসান, মা ও সন্তানের মানবিকতা এবং সর্বোপরি বিশ্বযুদ্ধ ঠেকিয়ে দেয়ার অপারেশন শেষপর্যন্ত জটিলতায় আচ্ছন্ন করে রাখে দর্শককে।

টেনেট ছবির দৃশ্য।

অভিনয়:
একটি বিশ্বময় সিনেমা হিসেবে নোলান বিভিন্ন দেশ থেকেই অভিনয় শিল্পীদের নিয়েছেন।

সিনেমার প্রটাগনিস্ট জন ডেভিড ওয়াশিংটন , বিখ্যাত হলিউড অভিনেতা ড্যানজেল ওয়াশিংটনের ছেলে। তবে অভিনয়ে নিজের দক্ষতার আলাদা ছাপ রাখতে পেরেছে জন। সিআইএ এজেন্ট হিসেবে তার অভিনয়, ফাইটিং, এক্সপ্রেশন আর চরিত্রে মিশে যাওয়া দারুনভাবে চমকিত করেছে। তাঁর সাথে সাপোর্টিং রোলে ছিলেন টোয়াইলাইট অভিনেতা রবার্ট প্যাটিনসন, যার উত্থান জুড়ে রহস্য রয়ে গেছে। পুরো সিনেমা যারা দেখেছেন তারা প্যাটিনসনের অভিনয় ও সিনেমায় তার অবস্থান দেখে মুগ্ধ হবেন। শক্তিশালী বলিউড অভিনেত্রী ডিম্পল কাপাডিয়া অস্ত্রব্যবসায়ীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তার ডায়লগ ডেলিভারি আর রহস্যময় কথা এমন ছিলো যা সবসময় বিশ্বাস করা যায় না। তার চরিত্রটি কেবল গুরুত্বপূর্ণ নয়, তিনি নায়কের সাথে যেভাবে আচরণ করেছেন তা বেশ আকর্ষণীয়ও। সাতোর চরিত্রে ব্রানাগের ইংরেজি উচ্চারন রাশিয়ান মাফিয়া বলে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। তার স্ত্রীর কেটের চরিত্রে এলিজাবেথ দেবিকিও যথেষ্ট ভাল করেছেন।

চিত্রনাট্য ও পরিচালনা:

নোলান বরাবরের মত একজোড়া পদার্থবিজ্ঞানীকে নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন সিনেমার প্লট সাজাতে। আমি বলছি না যে, ক্রিস্টোফার নোলানের মন আসলে স্পেস-টাইম ধারাবাহিকতার সীমানার বাইরে কাজ করে। নোলানের চলচ্চিত্রগুলি বছরের পর বছর ধরে তৈরি এবং কারুকাজ করার ঝোঁক থাকে। যার দরুন সেই সিনেমার গল্প মাথায় চড়ে থাকে সিনেমা শেষ করার পরেও। টেনেট দেখেও এর অনেক প্রশ্ন নিয়ে বের হতে হয়েছে। নির্মাণ ও একশনের দিক থেকে টেনেট নোলানের আগের সিনেমাগুলিকে ছাড়িয়ে গেলেও হয়তো ঝোকের বিষয়টিতে পিছিয়ে গেছে। শুধুমাত্র টাইম ইনভার্সন করে অতীত, ভবিষ্যতে গিয়ে বিশ্বযুদ্ধ রুখে দেয়া ছাড়া সিনেমার মগজে ধরে রাখার মতো কিছু আছে কি? নোলান এই ছবিতে খুব একটা দ্বিধারও জন্ম দেননি। চিত্রনাট্যে নোলান সবসময় অনেকগুলো মাত্রা থেকে দর্শককে ভাবতে বাধ্য করেন যেটি টেনেটে অনুপস্থিত। প্রযুক্তি সম্পর্কে নোলানের স্তরযুক্ত প্লটটিকে বিভিন্ন মানবিকতা আর ত্রাতার চরিত্র আন্ডারলাইন করে এবং ব্যাখ্যা করে রাখে।

নোলান এক সাক্ষাতকারেও বলেছিলেন,
এই ছবিটি কোনও টাইম ট্রাভেল চলচ্চিত্র নয়। এটি বিভিন্ন সময় কীভাবে কাজ করতে পারে তা নিয়ে বানানো। পদার্থবিজ্ঞানের পড়া জানতে হবে না, তবে সিনেমায় অবজেক্ট এনট্রপিকে উল্টে ফেলেছে, তাই এটি আমাদের সাথে সম্পর্কিত সময়কে নিয়ে পিছনে চলেছে। আপনি দেখবেন, ব্রানাগ ছবিতে ভিলেন ডানকিরের নোলনের সাথে সহযোগিতা করেছিলেন। কেনেথ ব্রান-এর মতে, টেনেট হ‘ল একটি স্পাই অবজেক্ট যা বিশ্বব্যাপী হুমকির বিপক্ষে মোকাবেলা করছে। পারমাণবিক হলোকাস্ট না, সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হিসেবে টেনেট আরও খারাপ সম্ভাবনা নিয়ে বলা একটি গল্প।

চিত্রগ্রহণ:
ক্যামেরায় হোয়েট ভ্যান হোয়েটেমা এই নিয়ে তৃতীয়বার নোলানের সাথে কাজ করলেন। বরাবরের মতই তার কাছে নোলানের সিনেমা মানেই চ্যালেঞ্জিং সিনেমেটোগ্রাফি। চ্যাজিং দৃশ্য, ফাইটিং দৃশ্য, ব্লাস্ট, দেয়ালে আরোহনসহ ওয়াইড শটগুলো ছিল দেখার মতো। এবং অ্যাকশন-প্যাকড দৃশ্যের সাথে ঘটে যা প্রাকৃতিক উদ্দীপনা এবং সূক্ষ্মতার সাথে সম্পাদিত হয়। সময়ে ফিরে যাওয়ার ধারণা যেখানে সবকিছু বিপরীত দিকে চলে, একটি দৃষ্টি আকর্ষণীয় চিত্র তৈরি করে।

সম্পাদনা:
অসলো বিমানবন্দর ব্লাস্ট, টাইম ইনভারসন মুভমেন্ট ও চ্যাজিং দৃশ্যগুলোর সম্পাদনা চোখধাধানো ছিলো। এছাড়া ফাস্টকাট, ইন্টারকাট ও সময়ের পরিবর্তনগুলো খুব চলমান গতিতে দেখানো।

টেনেট ছবির দৃশ্য।

সঙ্গীত:
লুদভিগ ইয়োরানসনের মিউজিক শুনে মুগ্ধ হয়েছি স্টার ওয়ার্সে। টেনেটে ভয় ছিল হ্যান্স জিমারের মতো কিংবদন্তীর রিপ্লেসমেন্টে কতটা সফল হতে পারবেন লুদভিগ। আমি বলবো এই তরুন নিজের মতো মিউজিক ডিজাইন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তবে সুপার হিরো মুভির মিউজিকের সাথে সুক্ষ্ণ যে পার্থক্য সবসময় নোলানের ছবিতে থাকে তাতে খুব নতুনত্ব পাইনি। মূল ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরএতটাই অনন্য এবং ডুবিয়ে রাখে যে এটি উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দেয়।

লোকেশন:
আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, নরওয়ে, এস্টোনিয়া, ইটালি, ভারত ইত্যাদি জায়গায় শুট হয়েছে।

দুর্বলতা:
গার্ডিয়ান, ফোর্বসের মত পত্রিকা ম্যাগাজিনগুলো টেনেট নিয়ে নেগেটিভ রিভিউ দিয়েছে। অনেক চলচ্চিত্র সমালোচক টেনেট দেখে হতাশাও প্রকাশ করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি শিরোনামে যেটি বলেছি, নোলান এগিয়েছেন তার নির্মাণে তবে প্লটের দিক থেকে ইনসেপশন বা ইন্টারস্টেলার এখনো এগিয়ে আছে। চমত্কার ভিজ্যুয়াল এবং পারফরম্যান্স দিয়ে চরিত্রের দূর্বলতা কিন্তু প্লটের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে না। রিয়েলিটি হিসেবে ধরে অনেক জায়গায় অতি কাল্পনিক ঘটনার জন্ম দেয়া হয়েছে। জন যখন নয়টি অবজেক্ট আনতে টানেলে ঢোকে তখন বাইরে প্রচন্ড যুদ্ধ চলছিলো, কিন্তু ওই টানেলের কোন ক্ষতি হয়নি। কেউ যদি যুদ্ধের সেই দারুন দৃশ্য মিস করেন তবুও ঘটনা থেকে খুব একটি সরে যাবার সম্ভাবনা নেই। কারন ওই যুদ্ধ একটি কাউন্টডাউনের থ্রিল তৈরি ছাড়া আর কিছু করতে পারেনি। এছাড়া আমার সাউন্ড মিক্সিং আর ভয়েসেও খানিকটা দুর্বল লেগেছে।

শেষকথা:
করোনার বিশাল ধাক্কায় মুক্তি নিয়ে শঙ্কা থাকলেও টেনেট অবশেষে আলোর মুখ দেখে। ক্রিস্টোফার নোলানের চৌকস আড়াই ঘন্টার ছবি মানুষকে সঞারিত করেছে। বড় পর্দার একটি দর্শনীয় সিনেমা টেনেট সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাকে এর নির্মাণে সমৃদ্ধ করে। নোলান সাক্ষাতকারে টেনেটের বাজেট আর লাভ লোকসান নিয়ে বলেছেন,

ওয়ার্নার ব্রোস ‘টেনেট‘ প্রকাশ করেছে এবং আমি রোমাঞ্চিত হয়েছি যে এটি প্রায় $ 350 মিলিয়ন ডলার ব্যবসা করেছে এখন পর্যন্ত। তবে আমি উদ্বিগ্ন যে স্টুডিওগুলি আমাদের রিলিজ থেকে ভুল কথা ছড়াচ্ছে যে ফিল্মটি কোথায় ভাল কাজ করেছে এবং এটি কীভাবে এই বাজে সময়ে লাভের মুখ দেখবে! এটিকে প্রদর্শন শুরু করার অজুহাত হিসাবে ওনারা সামনে আনছেন। নিজেকে বারবার চ্যালেঞ্জ করা নোলানের জন্য নতুন কিছু নয়। ২০১২ সালে দ্য ডার্ক নাইট দিয়ে উত্থানের মতো ২০১৭ সালে ডানকির্ক দিয়ে তিনি আবার দর্শকদের মগজ নিয়ে খেলেছেন। অন্তত সিনেমার মন্দার বাজারে নোলান একরকম টেনেট দিয়ে ত্রাতার মত হাজির হয়েছেন।





 খুঁজুন