আমাদের লক্ষ্য

এক কথায় বলতে গেলে আমাদের মূল লক্ষ্য চলচ্চিত্রের একটি পাটাতন তৈরি করা। যেখান থেকে চলচ্চিত্রের পেশাদারী সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া যায়। আর তার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে একটি পেশাদারী চলচ্চিত্র সাময়িকী গড়ে তোলার উদ্যোগ আমরা হাতে নিয়েছি। নাম সিনেঘর

আদতে বাংলাদেশে এখনো চলচ্চিত্র কেবল বিনোদন হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত। যে কারণে দৈনিক পত্রিকার একটি কিংবা অর্ধেক পাতা, অথবা নায়ক-নায়িকাদের গালগপ্প দিয়ে টুইটুম্বুর কোনো সাপ্তাহিক কিংবা মাসিক সাময়িকীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি আমরা। চলচ্চিত্রের জন্য নিবেদিত পেশাদারী কোনো সাময়িকী বাজারে নেই বললেই চলে। যা শুধু চলচ্চিত্রের খবরই দেবে না, একটি চলচ্চিত্র সংস্কৃতি ও বোধ তৈরিতেও কাজ করবে।

এই উপমহাদেশে চলচ্চিত্র কেবল বিনোদন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও বিশ্বজুড়ে নানা জায়গায়ই চলচ্চিত্র এখন অন্যতম বড় ও শক্তিশালী গণমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। সেখানে চলচ্চিত্র বললেই কেবল কিছু কাল্পনিক গপ্প-গুজবে ভরা চটকদার সিনেমা নয়, উঠে আসে সমাজ-সংস্কৃতি-অর্থনীতি-রাজনীতির নানা দিক। বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্র শিল্পে প্রামাণ্যচিত্রও একটি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু কষ্টের কথা হলো, এ দেশে এখনো এই শিল্পে প্রামাণ্যচিত্র তৈরির সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। প্রামাণ্যচিত্র বলতে নদী-নালা-খাল-বিলের ছবির সঙ্গে ভয়েসওভার দিয়ে এক ধরনের তথ্যচিত্র নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে। যা কোনো ভাবেই চলচ্চিত্র হয়ে ওঠেনি। যার কারণে দেখা যায় এ দেশে মোড়ে মোড়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে স্বপ্ন দেখা তরুণ পেলেও, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের স্বপ্ন দেখা কোনো তরুণকে আতসী কাচ দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে হ্যাঁ দুই-একটা প্রামাণ্য চলচ্চিত্র যে নির্মাণ হয়নি তা বলা যাবে না।

এর কারণ একটাই মনে হয় আমাদের কাছে, তা হলো চলচ্চিত্র নিয়ে আমাদের চেনাজানা ও বোঝার অভাব। চলচ্চিত্রকে বুঝতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস সিনেঘর নামের ওয়েব সাময়িকী। আমাদের লক্ষ্য একটাই সিনেঘর পাটাতন থেকে চলচ্চিত্রকে বোঝার প্রয়াস শুরু হোক। আজই। এখনই।