ঐশ্বরিয়া রাইয়ের অভিনয় জগতের শুরু হয়েছিল আমির খানের মাধ্যমে। দক্ষিণ ভারত, বলিউড, হলিউডে অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয় করেছেন বলিউডের দুই খান শাহরুখ খান ও সালমান খানের সঙ্গে। কিন্তু যাঁর হাত ধরে অভিনয়ের জগতে এসেছিলেন সেই আমির খানের সঙ্গে কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি এই অভিনেত্রী। স্কুল জীবনে ঐশ্বরিয়া দশম শ্রেণী বাদে কখনোই প্রথম স্থানের বাইরে যাননি। কিন্তু মডেলিংয়ের জন্য ¯œাতক আর শেষ করতে পারেননি। কান চলচ্চিত্র উতসব, ভারতীয় চলচ্চিত্র, পণ্যের শুভেচ্ছা ও সৌন্দর্য্যে সবসময়ই ঐশ্বরিয়া আলোচনায়। ১ নভেম্বর ছিল ঐশ্বরিয়াই রাইয়ের জন্মদিন। সে উপলক্ষে এমন আরও অনেক অজানা কথা থাকলো আজকের আয়োজনে। গুগলে ঐশ্বরিয়াকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি খোঁজা প্রশ্নগুলোর মধ্য থেকে ১০টি নিয়ে সাজানো হলো এই লেখাটি।

 

ঐশ্বরিয়া আসলেই দক্ষিণ ভারতের?
দেবদাস, চোখের বালি, রেইনকোট সবগুলো বাংলা সিনেমা। এ কারণে অনেকেই মনে করেন ঐশ্বরিয়া বাঙালি। আসলে ঐশ্বরিয়ার জন্ম দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালোরে। তাঁর বাবা সেনাবাহিনীর বায়োলোজিস্ট ছিলেন। মা গৃহিণী। তার বড় ভাই আদিত্য রাই একজন প্রকৌশলী।

 

মিস ওয়ার্ল্ড হওয়ার সময় তাঁর বয়স কত ছিল?
১৯৯৪ সালের ১৯ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় তিনি মিস ওয়ার্ল্ডের বিজয় মুকুট পড়েন। তখন তাঁর বয়স ১৯। ৮৬টি দেশের প্রতিযোগীকে হারিয়ে অ্যাশ মিস ওয়ার্ল্ড জিতে নেন।

 

ঐশ্বরিয়া রাই বিজয়ী হয়েছিলেন কোন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে?
সৌন্দর্য্য ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে আগেই বিচারকদের মন জিতে নিয়েছিলেন অ্যাশ। আর চূড়ান্ত প্রশ্নটিতে ঐশ্বরিয়ার উত্তর সবাইকে আরও অবাক করে দেয়। প্রশ্নকর্তা হিসেবে ঐশ্বরিয়া বেছে নিয়েছিলেন বিচারক ও অভিনেত্রী ক্যাথরিন কেলি লাঙকে। প্রশ্ন ছিল, ১৯৯৪ সালের মিস ওয়ার্ল্ড বিজয়ীর কোন গুণটি থাকা উচিত? ঐশ্বরিয়া কোনো সময় নষ্ট না করেই উত্তর দেন, ‘মিস ওয়ার্ল্ডকে সবসময়ই সময়ের সঙ্গে থাকতে হয়েছে। তাঁকে প্রমাণ করতে হয়েছে যে, তাদের আছে ভালোবাসার ক্ষমতা। এই ভালোবাসা তাদের জন্য যাঁরা সমাজের পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠী। আমাদের এমন কিছু মানুষ আছে, যারা মানুষের গড়া জাতীয়তাবাদ ও বর্ণের কাঠামোর বাইরে তাকাতে পেরেছে। আমাদের তেমনি দেখানো পথ অতিক্রম করে বাইরে তাকাতে হবে। তখনই মিস ওয়ার্ল্ড হয়ে উঠবে সত্যিকারের কিছু। ঐশ্বরিয়াকে বিজয় মুকুট পড়িয়ে দেন মিস ওয়ার্ল্ড ১৯৯৩ জ্যামাইকীয় সুন্দরী লিসা হানা।

 

ঐশ্বরিয়ার পথম চলচ্চিত্র কোনটি?
১৯৯৭ সালে তামিল ইরুভারু চলচ্চিত্র দিয়ে তাঁর অভিষেক হয়। এই চলচ্চিত্রের পরিচালক ছিলেন মনি রতনম। একই বছর অউর পেয়ার হো গায়া চলচ্চিত্র দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয়।

 

ঐশ্বরিয়ার প্রথম হলিউড চলচ্চিত্র কোনটি?
তাঁর প্রথম হলিউড চলচ্চিত্র ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজিডুস। ২০০৪ সালে এটি বানানো হয়। জেন অস্টেনের প্রাইড অ্যান্ড প্রেজিডুস অবলম্বনে চলচ্চিত্রটি বানানো হয়।

 

ঐশ্বরিয়া কি ¯œাতক শেষ করতে পেরেছিলেন?
স্কুল ও কলেজ জীবনে তিনি খুবই ভালো ছাত্রী ছিলেন। উচ্চ মাধ্যমিকে তিনি ৯০ ভাগ মার্ক পেয়েছিলেন। ভর্তি হয়েছিলেন স্থাপত্যে। কিন্তু মডেলিংয়ের জগতে পা বাড়িয়ে আর শেষ করতে পারেননি পড়ালেখা।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কি তার কোনো অ্যাকাউন্ট আছে?
টুইটারে তার কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। তবে একটি বিশাল ফ্যানপেজ আছে। এ বছর ১১ মে ইনস্টাগ্রামে অভিষেক হয় অ্যাশের। সেখানে নিয়মিত পারিবারিক ও ভ্রমণের ছবি পোস্ট করতে দেখা যায়।

 

ঐশ্বরিয়া কি নিরামিশভোজী?
না। ঐশ্বরিয়া নিরামিশভোজী না। যদিও তাঁর পরিবারের প্রায় সবাই নিরামিশভোজী। কিন্তু ঐশ্বরিয়ার ম্যাঙ্গালোরের মাছ ও মুরগী রান্না বেশ পছন্দের। বিভিন্ন সাক্ষতকারে তিনি এটি বলেছেন।

 

ঐশ্বরিয়ার চোখের আসল রং কী?
ঐশ্বরিয়াকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি সার্চ হওয়া প্রশ্ন এটি। ঐশ্বরিয়ার চোখ নিয়ে প্রতি মাসে বিশ্বব্যাপী ৬০০০ ইউজার সার্চ করে। চোখ নিয়ে সার্চ দেওয়ায় তাঁর ওপরে আছে একমাত্র এলিজাবেথ টেলর। গড়ে তাঁর চোখ নিয়ে সার্চ করেন ১১ হাজার ৭০০ ইউজার। অনেকেই বিতর্ক করেন ঐশ্বরিয়ার বাদামি চোখ নিয়ে। তাঁর যে চোখ প্রায়ই চলচ্চিত্রে দেখ যায়। আসলে তাঁর চোখের রং কী? তাঁর চোখের রং সাধারণত সবুজাভ। সে অনুযায়ী তাঁর চোখের রং নীল অথবা অধিক সবুজ। কেউ বলছেন ধূসর সবুজ। ঐশ্বরিয়া রাই অবশ্য সাক্ষাতকারে বলেছিলেন তাঁর চোখের রং মাতাম তুসো জাদুঘরে তার মূর্তির যে রং সেটাই।

 

ঐশ্বরিয়া রাই কয়টি ভাষায় কথা বলতে পারেন?
ভাষায় ঐশ্বরিয়ার দক্ষতার জুড়ি নাই। ছয়টি আলাদা ভাষায় তিনি কথা বলতে পারেন। তুলু, হিন্দি, ইংরেজি, মারাঠি, তামিল ও বাংলা।