স্পাইডার ম্যান, আয়রন ম্যান, থর, হাল্ক ও উলভারিনে মত্ত তরুণেরা। এই সুপারহিরোদের স্রষ্টা স্ট্যান লি। লি যে শুধু সুপারহিরো দিয়েই মানুষের মন কেড়েছে তা নয়। তার কমিক্স বই পড়ে অনেকেই বাস্তব জীবনে পেয়েছে অফুরান উতসাহ। বদলে গেছে জীবন। জীবনের সে সব গল্প লির মৃত্যুর পরে ভক্তরা বললেন বৃটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানের কাছে। তার কয়েকটি গল্প রাখা থাকল আপানদের জন্যও।

তুমি আমায় পড়া শিখিয়েছিলে
ম্যাডেলিন ওলফ
তখন আমি স্কুলে পড়ি। স্কুলের পড়ালেখা একদমই ভালো লাগে না। বইগুলো মারাত্মক বিচ্ছিরি মনে হয়। বিরক্তি ধরে যায়। সময়টা ষাটের দশক। তুমি নিয়ে এলে ছবিতে ভরপুর কিছু কমিক বই। স্কুলের পড়ার ফাঁকে তোমার বইগুলো পড়া শুরু করি। আহা! কী সুন্দর। ছবির সঙ্গে সঙ্গে লেখা। সেই যে কমিক বই পড়া শুরু করলাম, আজও ছাড়িনি। তাই বলে শুধু কমিক পড়া-ই তুমি শেখাওনি। বই পড়তে শিখিয়েছিলে। কমিকের পাশাপাশি এখনো বুঁদ হয়ে পড়ি নানা ধরনের বই।

ক্ষণিকের জন্য স্পাইডার ম্যান হয়েছিলাম
গাইএফএম
তখন আমার বয়স ছয় বছর। রাস্তায় একটা গাড়ি ক্রস করতে গিয়ে আমাকে ধাক্কা দেওয়ার অবস্থা। আমি মুহূর্তে স্পাইডার ম্যানের মতো একপাশে লাফ দেই। যা আমি বাসায় রঙিন বইগুলোতে পড়তাম। যদিও স্পাইডার ম্যানের উড়া উড়ি আর আমার লাফের মধ্যে বিরাট ফারাক। কিন্তু বিপদে মুহূর্তে বাঁচার চিন্তাটি তুমি শিখিয়েছিলে স্ট্যান লি।

আমাকে লেখক বানিয়েছিলেন স্ট্যান লি
স্যাম মিলার, লেখক
আমি বেড়ে উঠি যুদ্ধ বিধ্বস্ত যুক্তরাজ্যের বেলফাস্ট শহরে। নানা কারণে আমি স্কুলে যেতে পারিনি। কিন্তু আমি দুই কারণে ভাগ্যবান ছিলাম। আমাদের রাস্তার পাশেই ছিল বই ভর্তি একটি লাইব্রেরি। আর বাবা স্যুটকেস ভর্তি করে আমেরিকান কমিক বই নিয়ে আসতেন। বইগুলো পড়তে পড়তে আমি শব্দের প্রেমে পড়ি। আমি সিদ্ধান্ত নিই লেখক হব। কিন্তু আমি লেখক হতে পারতাম না। আমি ছিলাম একেবারেই নিম্মবিত্ত পরিবারের। আমাকে লেখক বানিয়েছে স্ট্যান লি। লি বলেছিল, লেখক হওয়ার জন্য কারও পরামর্শের দরকার নাই। কেবল লিখে যাও। আমি লিখেছি। এখনো লিখছি। ধন্যবাদ স্ট্যান লি।