টাইটানিক। জাহাজের নাম নাকি চলচ্চিত্রের! অনেকেই ধন্দে পড়ে যান। বিখ্যাত জাহাজ নিয়ে তৈরি এতটাই বিখ্যাত হয়েছিল যে জাহাজের জনপ্রিয়তাকে ছাপিয়ে যায়। টাইটানিক বললেই মানুষ আগে সিনেমার দিকে ঝুঁকে যায়। এমনকি সিনেমাটি বানাতে খরচ হয়েছিল জাহাজটির খরচের চেয়ে বেশি। তবে বিফলে যায়নি তা। বক্স অফিসেও মার মার কাট কাট ছিল। বিশ্বেও সেরা আয়কারী চলচ্চিত্রের তালিকায় একেবারে উপরের দিকে। আর পুরস্কার! ওর তালিকাতো ভয়ানক লম্ব। তা আজ টাইটানিক নিয়ে জানা কথা নয়। কথা হবে সে সব বিষয় জা আপনি না-ও জানতে পারেন!

কেট ও লিও নয়, তাদের জায়গায় ছিল অন্য কেউ!
এই ছবি দিয়ে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠে যায় লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও ও কেট উইন্সলেট। ভাগ্য অন্য দিকে গেলে তারা হতে পারতেন ইতিহাসের সাক্ষী। কারণ পরিচালকের প্রথম পছন্দ ছিল গুয়েনিথ পাল্ট্রো ও ম্যাথু ম্যাকগানোয়েকে। পরবর্তীতে ভাগ্য ফিরে তাকায় লিও ও কেটের দিকে।

কেট পাগল বলেছিলেন জেমস ক্যামেরুনকে
রোজের চরিত্রটি পাওয়ার জন্য কেট পাগল ছিলেন। তাই অডিশন দেওয়ার পরে ক্যামেরুণকে পাঠান ছোট্ট একটি চিরকুট। তাতে লেখা ছিল ‘আমি শুধু চরিত্রটি করতে চাই। তুমি যদি আমাকে না নাও, তাহলে তুমি আসলেই আস্ত একটা পাগল।‘ এমন চিরকুট লিখবেন না কেন? কেটের সঙ্গে অডিশনে ছিল যে আরও বাঘা বাঘা তারকারা। উমা থারম্যান, গুয়েনিথ পাল্ট্রো, উইনোন রাইডারেরা। শুধু চিরকুট লিখেই থামেননি। চরিত্রটি বাগিয়ে নিতে উপহারও পাঠান। তাতে লেখা ছিল ‘ফ্রম ইওর রোজ‘।

ছবি একেছিল কে?
সিনেমার সবচেয়ে দাগ কাটা দৃশ্য ছিল কেটের নগ্ন ছবি আঁকা। তবে এই ছবিগুলো একছিল কে? তা নিয়ে বেশ জল্পনা আছে। জল্পনা আর কিছু নয়। ছবিগুলো একেছিল পরিচালক জেমস ক্যামেরুন নিজেই। সিনেমায় ছবি আঁকতে দেখা যায় যে হাতটি তা ছিল জেমস ক্যামেরুনেরই।

জ্যাক ডসন নামে সত্যি কেউ ছিল?
লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর চরিত্রটি কাল্পনিক। কিছু কিছু কাল্পনিকতাও যে সত্য হয়ে যায় তার প্রমাণ এই সিনেমা। সেই জাহাজে সত্যিই একজন জ্যাক ডসন ছিলেন। যা সিনেমা বানানোর পরে জানা যায়। তবে তিনি লিওর মতো কোনো নায়ক ছিলেন না। আর জুয়া জিতে ভ্রমণের সুযোগও পাননি। তিনি ছিলেন জাহাজের একজন ক্রু।

লিওর ভাগ্য ভাল
লিওর ভাগ্য ভালো কেট উইন্সলেট সিনেমাটিতে ছিল। কে জানত মেক্সিকোর অভিনেতা জেরেমি সিসতো লিওর আগেই সিনেমাটিতে নাম লিখিয়ে ফেলে। স্ক্রিন টেস্টও দিয়ে দেয় কেটের সঙ্গে। কিন্তু লিওর নিয়তি যে কেটের সঙ্গেই বাঁধা। জেরেমির সঙ্গে তেমন রসায়ন মেলেনি কেটের। তাই লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওকেই নেন ক্যামেরুন।

ওহ মাই গড! লিন্ডসে লোহান
কেট একটা শক্ত পরীক্ষা দিয়েই পেতে হয়েছে চরিত্রটি। এই প্রতিযোগিতায় যে ছিলেন লিন্ডসে লোহানও। এমনকি কেটের মা হিসেবে সিনেমায় যাকে নেওয়া হয় তার চেহারার সঙ্গে লোহানের চেহারা সিংহভাগ মিলে যায়।

এই গানটি ছিল না!
সেলিন ডিওনের যে গানে সবাই পাগলপাড়া সেই গানই নাকি পরিকল্পনায় ছিল না জেমস ক্যামেরুনের। মাই হার্ট উইল গো অন নাকি খুব চুপিচুপি রেকর্ড করা হয়। তারপর পাঠানো হয় পরিচালক মহাশয়ের কাছে। পরিচালকও কোনো মতে রেখেছিলেন গানটি। আর সেটিই কি-না টাইটানিকের আইডি!

সূত্র: পপসুগার