মেরিলিন মনরোর আইকনিক ছবি

১৯৫৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। আলোকচিত্রশিল্পী স্যাম শ তাঁর বন্ধু মেরিলিন মনরোর একটি ছবি তুললেন। ছবিটি পরবর্তীকালে হয়ে উঠল অসাধারণ এক আইকনিক ছবি। নাম-ফ্ল্যাইং স্কার্ট। আজও ছবিটি শিল্পীমনের খোড়াক জোগায়। কিংবা চলচ্চিত্র পড়ুয়া কিংবা চলচ্চিত্রপ্রেমীরা একটু হলেও খুঁটিয়ে দেখেন ছবিটি। কিন্তু কী ছিল সেই ছবি তোলার পেছনের কাহিনি। তা জানতে একদিন হাজির স্যাম শ এর নাতনির কাছে। তিনি খুলে বললেন ছবিটি তোলার পেছনের গল্প।

** FILE ** In this Sept. 9, 1954 file photo, Marilyn Monroe poses over the updraft of a New York subway grating while in character for the filming of “The Seven Year Itch” in New York.(AP Photo/Matty Zimmerman, file)

আজ থেকে ৬৫ বছর আগের কথা। মেরিলিন মনরো একটি পোজ দিয়ে সারা বিশ্বে ঝড় তুলে ফেলেন। সেটি ছিল মুখে হাসিসহ পা অল্প ভাঁজ করে পোজ দিয়ে দাঁড়ানো। পরনের সাদা স্কার্ট নিচ থেকে বাতাসের তোড়ে উড়ে যাচ্ছে। স্কার্ট সরে গিয়ে বের হয়ে পড়েছে হাঁটু। এক হাত দিয়ে স্কার্ট ঠিক করায় ব্যস্ত মনরো। আরেক হাত মাথার দিকে।
তখন ১৯৫৪ সালের কথা। পরিচালক বিলি উয়াইল্ডার একটি সিনেমার দৃশ্য শুটিং করেন। সিনেমাটির নাম দ্য সেভেন ইয়ার ইচ। দৃশ্যটি ধারণ করেন নিউ ইয়র্ক সিটির ৫২ ও ৫৩ নাম্বার স্ট্রিটের মাঝে লেক্সিংটন অ্যাভিনিউতে। পাণ্ডুলিপিতে ছিল মেরিলিন মনরো ও তাঁর সহশিল্পী টম ইওয়েল সিনেমা দেখে বের হবে। তাঁর যখন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাবে তখন বাতাসে মনরোর স্কার্ট এভাবে উড়ে যাবে।

এমনকি আপনি যদি সিনেমাটি নাও দেখে থাকেন, ছবিটি আপনার ঠিকই চোখে পড়েছে। যদিও এই ৬৫ বছরে অনেকেই এই ছবির পেছনের গল্পটি জানে না। এমন কি জানেন না কে তুলেছিল এই ছবি। কে দিয়েছিল এই আইডিয়া।

আলোকচিত্রশিল্পী স্যাম শ আমার দাদা। ১৯৫১ সালে মেরিলিন মনরো ও স্যাম শর দেখা হয় ভিভা জাপাতা সিনেমার সেটে। আমার দাদা ছিলেন একজন সিনেমার সেট আলোকচিত্রশিল্পী। শুটিংয়ের সময় স্টিল ছবি তোল ছিল দাদার কাজ। মনরো তখনো অখ্যাত অভিনেত্রী। মেরিলিন সবসময় শুটিং শেষে দাদাকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে যেতেন। দুইটি আলাদ ব্যক্তিত্ব কেমন করে যেন একসঙ্গে যুক্ত হয়ে গেল। তাঁরা হয়ে গেলেন চিরদিনের জন্য বন্ধু।

কয়েক বছর পর স্যাম শকে প্রস্তাব দেওয়া হয় দ্য সেভেন ইয়া ইচ সিনেমার স্থিরদৃশ্য তোলার জন্য। যে সিনেমায় তাঁর বন্ধু মনরোও অভিনয় করছেন। এতদিনে মনরো বিখ্যাত হয়ে গেছেন। এবং সিনেমার জন্য এমন একটি ছবি তোলা ছিল আমার দাদা স্যাম শ এর আইডিয়া। আর এটি সিনেমার কোনো দৃশ্য ছিল না। মূলত সিনেমার প্রচারের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল।

তবে এই আইডিয়াটি স্যাম ধার করেছিলেন তাঁর আরেকটি আইডিয়া থেকে। ১৯৪০ সালের ফ্রাইডে ম্যাগাজিনে তাঁর একটি ফটেশুটের আইডিয়া থেকে এটি মাথায় আসে। সেখানে দেখা যায় একটি সাগর তীরে কয়েকজন তরুণী দাঁড়ানো। তাদের স্কার্ট বাতাসে উড়ে যাচ্ছে। তারা সেটি আটকানোর চেষ্টায় ব্যস্ত। এই ছবি ফ্রাইডে ম্যাগাজিনে ছাপা হওয়ার পর মুহূর্তেই বিক্রি হয়ে যায়। এরপর যখন স্যাম শ এই সিনেমার পান্ডুলিপি পড়েন তখন তিনি এমন একটি ছবি তুলে দ্বিতীয়বার বিখ্যাত হওয়ার সুযোগ খোঁজেন। এবং রাতারাতি তিনি ছবিটি বিখ্যাত হয়ে যায়।

অনেকেই জানে না যে, সিনেমার এই দৃশ্যটি দুটি আলাদা জায়গায় শ্যুট হয়েছিল। একটি হয়েছিল অনেক আলোকিচিত্রীকে দাওয়াত করে লোকজনের সামনে। যাতে ছবিটি নিয়ে হাইপ উঠে। সেখানে দাওয়াত দেওয়া হয় সকল সাংবাদিকদের। কিন্তু সিনেমায় যে দৃশ্যটি আপনি দেখেছেন এবং যে ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায় তা তোলা হয়েছিল খুবই গোপনীয়ভাবে স্টুডিওর মধ্যে। সেখানে কেবল আমার দাদা স্যাম শকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল ছবি তোলার জন্য। স্যাম সেখানে এই আইকনিক ছবিটি তোলেন আর ৬৫ বছর পরেও সেটি হয়ে থাকল একটি বিস্ময়কর ইতিহাস।