গতবারের কান চলচ্চিত্র উৎসবে বেশ নাম কুড়ায় ইরানি নির্মাতা আসগর ফরহাদির ছবি ‘আর হিরো’। সেই ছবির গল্পই কিনা চুরি করা! এমন অভিযোগ অস্কারজয়ী এই নির্মাতার বিরুদ্ধে।

ফরহাদির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন তারই এক সাবেক ছাত্রী। ফরহাদির বিরুদ্ধে করা মামলাটি ইরানি আদালতে বিচারাধীন আছে।


‘আ সেপারেশন’ ও ‘দ্য সেলসম্যান’ ছবির জন্য দুবার অস্কার জিতেছেন ফরহাদি। এবার তাঁর ছবি কান চলচ্চিত্র উৎসবে পেয়েছে গ্রান্ড জুরি প্রাইজ। আর তাঁর বিরুদ্ধেই কিনা গল্প চুরির অভিযোগ।

আসগর ফরহাদির বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন তাঁর একসময়ের ছাত্রী আজাদেহ মাসিহজাদেহ। এই ছাত্রীর দাবি, ফরহাদির ক্লাসে দেখানোর জন্য তিনি একটি প্রামাণ্যচিত্র বানিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেটির নাম ছিল ‘অল উইনারস, অল লুজারস’।

মার্কিন সাময়িকী ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’ সূত্রে জানা গেছে, যে ব্যক্তির দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে এই ছবির গল্প তৈরি হয়েছে, তিনি ও মাসিহজাদেহ মিলে মানহানির মামলা এনেছেন ফরহাদির বিরুদ্ধে।

২০১৪ সালে তেহরানের কারনামেহ ইনস্টিটিউটে ফরহাদির একটি ওয়ার্কশপে যোগ দিয়েছিলেন মাসিহজাদেহ। কোর্স চলাকালীন শিক্ষার্থীদের বাস্তব ঘটনানির্ভর প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করতে দেওয়া হয়।

সে সময় মাসিহজাদেহ শোকরি নামক এক ব্যক্তির জীবনের গল্প খুঁজে বের করেন। শোকরি জানিয়েছিলেন, ঋণের দায়মুক্ত হয়ে কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় সোনাদানা ভর্তি ব্যাগ খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু নিজের সততা কারণে সেই ব্যাগ দ্রুত আসল মালিককে ফিরিয়ে দেন। শোকরির জীবনের এ অভিজ্ঞতার সাথে ‘আ হিরো’র চিত্রনাট্যের বেশ মিল রয়েছে।

সে সময় মাসিহজাদেহর প্রদর্শিত শোকরির জীবনের এই গল্পটি দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান আসগর ফরহাদি ও মাসিহজাদেহর নিজের বন্ধুরাও।

ফরহাদির বিরুদ্ধে করা এই মামলায় তিনি অপরাধী প্রমাণিত হলে ‘আ হিরো’ সিনেমা হলে প্রদর্শনের মাধ্যমে তিনি যত আয় করেছেন, তা জব্দ করবে পুলিশ।

আর যদি মামলা প্রমাণিত না হয়, তবে মিথ্যা অভিযোগ আনার দায়ে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে তাঁকে। সাজা হিসেবে দেওয়া হবে ২ বছরের কারাদন্ড এবং ৭৪ চাবুকের বাড়ি।

২০১৯ সালে মাসিহজাদেহ প্রথম পুলিশের কাছে যান। তিনি দাবি করেন, ফরহাদির কথায় তিনি লিখিতভাবে ওই গল্পের সত্ত্ব বিক্রি করেছেন নির্মাতার কাছে।


তবে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করাতে ফরহাদি প্রভাব খাঁটিয়েছেন বলে দাবি মাসিহজাদেহর। তিনি বলেন, ‘আসগর ফরহাদি ইরানি চলচ্চিত্রের একজন অন্যতম পথিকৃত। আমাকে চুক্তিপক্ষে স্বাক্ষর করাতে তিনি তখন তাঁর প্রভাব কাজে লাগিয়েছেন।’

এদিকে ফরহাদির আইনজীবি, ‘আ হিরো’র সহ-প্রযোজক, ফরাসি ড্রিস্ট্রিবিউটর সোফি বরোভস্কি বলেন, ”‘আ হিরো”র গল্প বহু আগে থেকেই প্রচলিত। বার্টল্ট ব্রেখট এর “গ্যালিলিও” নাটক থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন ফরহাদি। সেখান থেকে এসেছে “আ হিরো”র মূল থিম, যেখানে আমাদের সমাজে নতুন নতুন হিরো তৈরির ধারণা আছে।’

তিনি আরও জানান, ২০১৯ সালে যখন ফরহাদি এই ধারণাটি নিয়ে চিন্তা করেন, তখন তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, শোকরির গল্পের ফ্রি ইন্টারপ্রিটেশন হিসেবে ‘আ হিরো’র গল্প লিখবেন এবং ফিচার ফিল্ম বানাবেন।’

তবে আসগর ফরহাদির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও তাঁর একজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে সিনেমা বানিয়েছেন ফরহাদি।

যদিও ঐ শিক্ষার্থী এও বলেছেন যে, ‘ফরহাদি সত্যিই একজন তুখোড় চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি আমার গল্পটা নিয়ে যা করেছেন সেটা তার কাজ, আমার নয়।’