‘ছুটির ঘণ্টা’ ছবির পরিচালক আজিজুর রহমান মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। কানাডার টরন্টোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন চিত্রপরিচালক। সোমবার রাতে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহন। তিনি দৈনিক প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ২০ মিনিটে আজিজুর রহমান মারা গেছেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি শ্বাসকষ্ট ও বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। শেষ এক বছর কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়া চলতে পারতেন না।

আজিজুর রহমান প্রায় এক যুগ ধরে কানাডায় তাঁর দুই সন্তানের সঙ্গে থাকতেন।

জানা গেছে, তাঁর মরদেহ বগুড়ার সান্তাহারে তাঁর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। পারিবারিকভাবে আজিজুর রহমানের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

আজিজুর রহমানের জন্ম ১৯৩৯ সালের ১০ অক্টোবর। তিনি বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন শহরে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পিতার নাম রূপচান প্রামাণিক।

পড়ালেখা শুরু হয় স্থানীয় বিদ্যালয় থেকেই। তিনি স্থানীয় আহসানুল্লাহ ইনস্টিটিউট থেকে এসএসসি পাস করেন। রাজধানীর ঢাকা সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। চারুকলা আর্ট ইনস্টিটিউটে কমার্শিয়াল আর্টে ডিপ্লোমা করেছেন।

তাঁর চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ার শুরু হয় সহকারী পরিচালক হিসেবে। ১৯৫৮ সালে ‘এ দেশ তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে পরিচালক এহতেশামের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। তাঁর নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল’। প্রণয়োপাখ্যানমূলক এই ছবি মুক্তি পায় ১৯৬৭ সালে।

আজিজুর রহমান ৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘অশিক্ষিত’, ‘মাটির ঘর’, ‘জনতা এক্সপ্রেস’, ‘সাম্পানওয়ালা’, ‘ডাক্তার বাড়ি’, ‘গরমিল’ ও ‘সমাধান’ উল্লেখযোগ্য।