নিজের প্রথম ছবির জন্য নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন উচ্ছ্বসিত থাকবেন এই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই উচ্ছ্বাসে এসে বাগড়া দেয় করোনা মহামারি। ছবিটির শুটিং শেষ হলেও আটকে থাকে দুই বছর। অবশেষে পোস্টার প্রকাশিত হলো বহুল কাঙিক্ষত এই ছবির। মুক্তিও পাবে এ বছরই।

এপ্রিল মাসের প্রথম দিনেই প্রকাশিত হলো ছবিটির ডিজিটাল পোস্টার। যা দেখে দর্শক-সমালোচকদের দীর্ঘ অপেক্ষায় খানিক সান্ত্বনা জুটলো বটে। কারণ, পোস্টারেই অনুমেয়, বাংলা সিনেমার ফুটো পালে যুক্ত হচ্ছে নতুন ‘হাওয়া’।

ছবির অন্যতম অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী অনলাইনে বেশ সরব ছবিটির প্রচার নিয়ে। তিনি বাংলাদেশী অনলাইন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা আমার প্রাণের ছবি।’

১ এপ্রিল প্রকাশিত প্রথম পোস্টারে দেখা মিলেছে সিনেমার প্রায় সব কলাকুশলীকে। দেখা যাচ্ছে, চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুশি, সুমন আনোয়ারদের মধ্যমণিতে চিৎ হয়ে আছেন লাল হাফপ্যান্ট পরা অচেতন শরিফুল রাজ! সুমন আনোয়ারের হাতে টর্চ লাইট।

পোস্টার প্রকাশ করা প্রসঙ্গে ছবির পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন দৈনিক প্রথম আলোকে জানান, ছবির এটি প্রথম অফিশিয়াল পোস্টার। তিনি বলেন, ‘অনেক আগে ছবির শুটিং শেষ হয়েছে। কোভিডের কারণে আমরা পিছিয়ে গেছি। দর্শকেরা ছবির হালনাগাদ তথ্য জানেন না। এ কারণে দর্শকের জন্য প্রথম পোস্টার প্রকাশ করলাম।’

তবে পোস্টারটি ঢাকার সিনেমার গতানুগতিক পোস্টারের মধ্যে পড়ে না। এটি পেইন্টিং করে পরে পোস্টারে রূপান্তরিত করা হয়েছে। পরিচালক বলেন, ‘একটু ভিন্নভাবে করার চেষ্টা করেছি। ছবিটির মুক্তির আগে আগে আরও লুক নিয়ে ডিজিটাল পোস্টার আসবে। ছবির নয়জন শিল্পীর নয়টি আলাদা করে এভাবে পোস্টার প্রকাশ করার ইচ্ছা আছে। ঈদুল ফিতরের পরপরই ছবির ট্রেলার প্রকাশ করব। তবে ছবির কোনো টিজার রাখছি না।’

জেনে রাখা ভালো, প্রকাশিত পোস্টারটি ডিজাইন করেছেন সব্যসাচী মিস্ত্রী।

পোস্টার প্রকাশ ও মুক্তি প্রসঙ্গে চঞ্চল চৌধুরী বলেন,  ‘কোভিডের কারণে গত কয়েক বছরে আমাদের জীবনে অনেক ছন্দপতন ঘটেছে। অর্থনীতির চাকা থেকে শিল্পের চাকা, সব ক্ষেত্রেই স্থবিরতা নেমে এসেছে। সেই চাকা নতুন করে আবার সচল হতে শুরু করেছে। এখন শুধু প্রয়োজন দর্শকদের সাবলীল অংশগ্রহণ। অনেক আগেই আমাদের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা “হাওয়া”র কাজ শেষ হয়েছে। আজ প্রকাশ হলো পোস্টার। এখন শুধু মুক্তির অপেক্ষায় আছি। অচিরেই ছবিটি মুক্তি পাবে।’

২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে নভেম্বরে ছবিটির শুটিং হয় গভীর সমুদ্রে। ছবিটির গল্প সম্পর্কে পরিচালক তখন বলেছিলেন, ‘আমাদের ছবিটা জেলেদের জীবনের দুঃখ-দুর্দশার ছবি নয়। জেলেদের জীবনের সংগ্রামের গল্প নয়। আমরা বারবার বলেছি, এটা আধুনিক রূপকথার গল্প। গল্পটি একটা মিথোলজিকে ভিত্তি করে। সমুদ্রের জীবনের গল্পের ভেতর দিয়ে একটা হাইপাররিয়্যালিটির গল্প বলতে চাই, যার মধ্যে গল্প বলার ক্ষেত্রে রিয়েলিস্টিক অ্যাপ্রোচ আছে। আমরা দেখাতে চাই আধুনিক রূপকথা কিংবা প্রতিশোধের গল্প। এটাই মূল কথা। এখানে মাছ ধরার গল্প মুখ্য নয়। মাছ ধরা চরিত্রের দৈনন্দিন কাজেরই একটি অংশ।’

প্রেক্ষাগৃহে কবে মুক্তি পাবে ছবিটি? জানতে চাইলে পরিচালক প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছবির পোস্টপ্রোডাকশনের কাজ প্রায় শেষ। ১০-১২ দিনের মধ্যেই সেন্সরে জমা দিতে পারব ছবিটি। সেন্সরে উঠতে হয়তো আরও সপ্তাহখানেক লাগতে পারে। সব মিলে আশা করছি ঈদুল আজহার পরপরই জুন মাসে মুক্তি দিতে পারব ছবিটি। কারণ, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলে গেছে। কিছুটা সিনেমা দেখার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।’

মেজবাউর রহমান সুমনের কাহিনী এবং সংলাপে সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন জাহিন ফারুক আমিন, সুকর্ণ সাহেদ ধীমান ও পরিচালক নিজেই। চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রহণ করেছেন কামরুল হাসান খসরু, সম্পাদনা সজল অলক, আবহ সংগীত রাশিদ শরীফ শোয়েব এবং গান বানিয়েছেন ইমন চৌধুরী। নির্মাণ সংস্থা ফেইসকার্ড প্রোডাকশন এবং প্রযোজনা সংস্থা সান মিউজিক এন্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেড।