৫১তম জন্মবার্ষিকী ক্ষণজন্মা নায়ক সালমান শাহ-এর। বাংলা চলচ্চিত্রে মাত্র ৪ বছরের ক্যারিয়ারে দিয়েছিলেন ২৭টি জনপ্রিয় ছবি। হয়ে উঠেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের স্টাইল আইকন। তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন মৌসুমী, শাবনূর, শাবনাজ থেকে শুরু করে শাহনাজেরা। জন্মদিনে জেনে নেওয়া যাক সালমানের ৫ সিনেমা নিয়ে।

কেয়ামত থেকে কেয়ামত

নব্বই দশকে বেশিরভাগ সিনেমাই নির্মাণ হতো হিন্দি রিমেক করে। তখন তরুণ পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান তিনটি হিন্দি ছবি থেকে একটির রিমেক করার সিদ্ধান্ত নেন।

অবশেষে ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ ছবিটির জন্য নায়িকা হিসেবে মৌসুমীকে পছন্দ করেন। কিন্তু নায়ক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কী করা তখন খোশনুর আলমগীর চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার নামে একটি ছেলের খোঁজ দেন। যিনি পরে সালমান শাহ রূপে রূপালি পর্দা জয় করেন।

রিমেক হওয়া সত্ত্বেও প্রেক্ষাগৃহে তাক লাগিয়ে দেয় এই সিনেমা, নতুন এই জুটিকে সাদর আমন্ত্রণে গ্রহণ করে নেন এদেশের সিনেমাপাগল মানুষ। বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় সালমান শাহর কথা।

বলিউডে রাজ চরিত্রে আমির খানের মতো একজন নায়ক অভিনয় করলেও নবাগত সালমান শাহ কিন্তু তাকে অনুকরণ করেননি। তিনি চেষ্টা করেছেন নিজের মতো করে এই চরিত্রে অভিনয় করতে আর তার সেই চেষ্টার কারণেই সিনেমাটি এমন দুর্দান্ত ব্যবসা করতে সক্ষম হয়।

বিক্ষোভ

মৌসুমির সঙ্গে সামান্য মনমালিন্যের কারণে মাত্র চারটি ছবি করার পরে এই জুটি ভেঙে যায়। পরে সে সময় আরেক উঠতি নায়িকা শাবনূরের সাথে জুটি বাঁধেন সালমান শাহ। এই জুটি গড়ার আগে অল্প কিছু সিনেমায় শাবনূর অভিনয় করলেও সেগুলোর কোনোটাই ব্যবসায়িকভাবে সাফল্যের মুখ দেখেনি।

কিন্তু এই জুটিই বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বকালের সেরা একটি জুটি হিসেবে স্থান পায়। জুটি অভিনীত মোট সিনেমার সংখ্যা ১৪টি, যার মধ্যে অধিকাংশ সিনেমাই রোমান্টিক।

তবে ‘বিক্ষোভ’ সিনেমাটি ব্যতিক্রম, রোমান্টিক এই জুটিকে নিয়ে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে দারুণ একটি অ্যাকশন নির্ভর সিনেমা তৈরি করেন মহম্মদ হান্নান।

সালমান শাহ ও শাবনূর ছাড়া সিনেমার অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন ডলি জহুর, রাজিব, তুষার খান, নাসির খান, দিলদারের মতো শিল্পীরা, তারা প্রত্যেকেই নিজের সেরাটা দিয়ে সিনেমাটা উপভোগ্য করে তুলেছিলেন।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুরে সিনেমার গানগুলোও ছিল অসাধারণ, বিশেষ করে ‘বিদ্যালয় মোদের বিদ্যালয়’ ও ‘একাত্তরের মা-জননী’ গান দুটি ভীষণ জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৯৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল। বক্সঅফিসেও দারুণ সফলতা পায়।

স্বপ্নের ঠিকানা

সালমান শাহ-শাবনূর জুটির আরেক ছবি ‘স্বপ্নের ঠিকানা’। সালমান শাহর ক্যারিয়ারের অন্যতম জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল সিনেমা এই ‘স্বপ্নের ঠিকানা’। এম. এ. খালেকের পরিচালনায় ১৯৯৫ সালের ১১ মে ঈদ উপলক্ষে মুক্তি পায় এই ছবিটি।

একটা দারুণ খবর হলো, একই দিনে মৌসুমি-ওমর সানি জুটির ছবি মুক্তি পাওয়ায় ঢাকার নামকরা হলগুলো এই সিনেমা নিতে চায়নি! কিন্তু জেলাগুলোর প্রেক্ষাগৃহে এই ছবির জনপ্রিয়তার কারণে পরের সপ্তাহেই সিনেমাটি ঢাকায় মুক্তি পায়।

এই ছবি জনপ্রিয়তার আরেক অস্ত্র ছিল গান। ছবির ‘ও সাথীরে যেও না কখনো দূরে’, ‘নীল সাগর পার হয়ে’, গান দুটো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

কন্যাদান

সালমান শাহ কেন আলাদা তার একটা কারণও আছে। সাধারণত নায়কসুলভ চরিত্র ছাড়া অন্য চরিত্রে কোনো নায়কই অভিনয় করতে চান না। সালমান ছিলেন ব্যতিক্রম। নায়ক হিসেবে যেমন ভক্তদের মন জয় করেছেন, তেমনি তার অভিনয়ক্ষমতাও ছিল অসাধারণ।

১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত ‘কন্যাদান’ হচ্ছে এমনই একটি সিনেমা। এক নিঃসন্তান দম্পতির সন্তান নিয়ে টানাপোড়েনের গল্প কন্যাদান। ছবিটিতে সালমানের বিপরীতে ছিলেন লিমা।

সত্যের মৃত্যু নেই

সালমানের ক্যারিয়ার যখন তুঙ্গে ঠিক তখনই আচমকা সালমান শাহর অপমৃত্যুর খবরটি আসে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান এই নায়ক। সালমান শাহর মৃত্যুর ঠিক এক সপ্তাহ পরেই মুক্তি পায় ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘সত্যের মৃত্যু নেই’ সিনেমার।

সিনেমাতে শাবানার ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেন সালমান। এ ছাড়া অন্যান্য চরিত্রে আলমগীর, রাজিব, শাহনাজ, রাইসুল ইসলাম আসাদ, মিশা সওদাগর প্রমুখ শিল্পীরা অভিনয় করেন।

সালমান শাহর মৃত্যুর মাত্র এক সপ্তাহ পরে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ায় সিনেমা হলগুলোতে দর্শকের ঢল নেমে এসেছিল। ছবিরি ‘চিঠি এলো জেলখানাতে অনেকদিনের পর’ গানটি ব্যাপক জনিপ্রয়তা পায়। যখন সালমান গানটিতে অভিনয় করেন, তখন হলের অনেক দর্শকই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন।