দহন সিনেমার প্রধান চরিত্র হলো এক জন যুবক। সিনেমায় যার নাম মনির। মনির একজন শহরের মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন শিক্ষিত বেকার যুবক। পরিবারে আছে তার মা ,বোন এবং মামা। বোন পড়ালেখা করে এবং মামা সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রাপ্ত। মনির এম এ পাস করে চাকরির আশায় আছে।
চলচ্চিত্র: দহন
পরিচালক: শেখ নিয়ামত আলী
কলাকুশলী: হুমায়ন ফরীদি , ববিতা ,বুলবুল আহমেদ , শ্যামলী আহমেদ , আসাদুজ্জামান নূর, প্রবীর মিত্র , দৌলি আনোয়ার সহ আরো অনেকে
দেশ: বাংলাদেশ
সাল: ১৯৮৫
দহন সিনেমায় মনির কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেও সিনেমায় পরিচালক খুব সুন্দর করে একটি শহরের সমাজের বিভিন্ন চিত্র খুব সুন্দর করে চিত্রায়িত করেছেন। বিভিন্ন চরিত্রে মধ্যে প্রধান কিছু চরিত্র নিয়ে আলোচনা করব।
মনির দহন সিনেমায় প্রধান চরিত্র। একজন শিক্ষিত বেকার যুবক। একটা চাকরির আশাই বিভিন্ন দিকে চুটাছুটি করে। কিন্তু কোনো সুরাহা হয় না। অন্য দিকে মনির একটি বাসায় টিউশনি করে। মনির যখন বাসায় আসে তখন শুরু হয় মায়ের সেই চাকরি না পাওয়ার বকাবকি। বোন ভাইকে সাহস দেয়। কিন্থ অনেক চেষ্টার পর যখন কোনো চাকরি পাই না তখন মনির হতাশ হয়। একদিন মনির তার এক বন্ধুর কাছে যাই। বন্ধু ও চাকরি না পেয়ে নিজে নিজে আউটসোর্সিং করে। মনির সিদ্ধান্দ নেয় চাকরি করবে না। ব্যবসা করবে। বন্ধু তাকে সাহায্য করবে।
মনির চরিত্রের সাথে যুক্ত হয় আরো একটি চরিত্র আইভি। আইভি হলো মনিরের ছাত্রী। আইভি মনিরের পড়ালিখার স্টাইল পছন্দ করে। একসময় আইভি মনির কে তার নিজের জীবনের সাথে নিতে নিতে চাই। কিন্থ মনির তার অসচল জীবনের সাথে আইভি কে জড়াতে চাই না। এই জন্য মনির আইভীর কাছে দূরে সরে যাই। অন্যদিকে আইভীর আগে প্রবাসী এক যুবকের সাথে এনগেজমেন্ট হয়েছিল। পরিচালক এখানে সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। অনেক কিছু আশা করার পর ও পাওয়া যাই না সমাজ ব্যবস্থার কারণে ।
দহন সিনেমায় পরিচালক আইভীর পরিবারের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে সমাজের আরো একটি চিত্র চিত্রায়িত করেছেন। আইভীর পরিবারে ছিল ভাই এবং ভাবি। তাদের কোনো ছেলে মেয়ে ছিল না। সমাজের টাকা থাকার পর নিঃসন্তান পরিবারের চিত্র খুব সুন্দর করে তুলে ধরেছেন।
মনির যখন বিভিন্ন জায়গায় চাকরির জন্য ঘুরাঘোরি করে তখন পরিচালক সমাজের আরো কিছু চিত্র তুলে ধরেছেন। অভাবের কারণে মা তার ছেলে মেয়েদের মুখে খাবার দিতে পারে না। মাদকাসক্ত স্বামী তার বৌকে কেমন করে নির্যাতন করে ঘর থেকে বের করে দেয়। নারী লোভী মানুষের জীবন। তুলে ধরেছেন অতিলোভী নারীর জীবন। কি করে নারী লোভের কারণে নিজ সংসার ছেড়ে অন্যের কাছে চলে যাই। মা ছেলে মেয়েদের ছেড়ে চলে গেলে কি হয় ছেলে মেয়েদের মনের অবস্থা।
দহন সিনেমার পরিচালক সমাজ ব্যবস্থা পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সরকারের অবস্থা ও তুলে ধরেছেন। অনিয়ম ও দুর্নীতি কারণের পণ্যের মূল্য বাড়ার কারণে শ্রমিকের আন্দোলন সংগ্রামের চিত্র ।
সিনেমায় তুলে ধরা হয়েছে আদম ব্যবসায়ী। কি করে অসহায় লোকের টাকা লুট হয়। এই ক্ষেত্রে কি করে বন্ধু বন্ধুকে প্রতারিত করে তার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেক্ষেত্রে সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র এই প্রতারণার শিকার হয়।
দহন সিনেমায় পরিচালক সমাজের আরো একটি চিত্র তুলে ধরেছেন। ছেলে কর্তৃক এক মেয়ে প্রতারিত হওয়ার চিত্র। মনির এর বোন এক যুবকের সাথে ভালোবাসা ছিল অনেক দিন ধরে। কিন্থ মেয়ে যখন বিয়ের কথা বলে তখন ছেলেটা মেয়েকে বিয়ে করবে না বলে জানিয়ে দেয়। মেয়ে যখন বাসায় আসে তখন মায়ের কাছ থেকে জানতে পারে সমাজের লোকেরা এই নিয়ে কথা বলছে। এই জন্য মা মেয়ে কিছু কথা শুনাই। মেয়ে এই জন্য কাউকে কিছু না বলে বাসা থেকে বের হইয়ে যাই। মনির তার বোন কে এই পৃথিবীতে আর পাই না।
সিনেমার শেষের দিকে আমরা মনির একাকীর্থ অসহায় জীবনের চিত্র দেখি।
দহন সিনেমা টি মুক্তি পায় ১৯ই ডিসেম্বর ১৯৮৫ সাল। পরিচালক ও রচনা : শেখ নিয়ামত আলী , সিনেটোগ্রাফি : আনোয়ার হোসেন , সম্পাধক : সাইদুল আনাম টুটুল
অভিনয়ে : হুমায়ন ফরীদি , ববিতা ,বুলবুল আহমেদ , শ্যামলী আহমেদ ,আসাদুজ্জামান নূর, প্রবীর মিত্র , দৌলি আনোয়ার সহ আরো অনেকে।