রিচালক : ইসাও তাকাহাতা
কলাকুশলী: সুতোমু তাতসুমি, ইয়ানো সিরাইশি
দেশ: জাপান
সাল: ১৯৮৮
রেটিং: ৪/৫

 

কিছু সিনেমা আছে যা চোখের কোনায় অশ্রু জমা করে অথবা কোন একটা সিন। কিন্তু কিছু সিনেমা আছে যা মনকে বিষণ্ণ করে দেয়। গ্রেইভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইস এমনই একটা সিনেমা।

সিনেমাটি আপনাকে কিছুক্ষণের জন্য নিশ্চুপ করিয়ে দেবে। এটি একটি জাপানিজ এনাইম মুভি। পরিচালক “ইসাও তাকাহাতা”। সিনেমার গল্পটি জাপানের বন্দর নগরী কোবের ছোট্ট শিশু সেইটা আর তার ৫ বছর বয়সী বোন সুটসুকুর বেঁচে থাকার সংগ্রামের, যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন বিমান হামলায় তাদের ঘরবাড়ি হারায়। তাদের মা ও মারা যায় সেই বিমান হামলায়।

গল্পটি শুরু হয় একটি সাবওয়ে স্টেশনে, যেখানে সেইটা সর্বশেষে মারা গিয়েছিল। “সেপ্টেম্বর ২১, ১৯৪৫; সেটা ছিল সেই রাত যে রাতে আমি মারা গিয়েছিলাম” এভাবেই শুরু হয় গল্পটি। এরপর পুরো গল্পটি তার ফ্ল্যাশব্যাকে চলতে থাকে। বিমান হামলায় সব হারিয়ে সেইটা ও সুটসুকু তাদের এক আন্টির বাসায় আশ্রয় নেয়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তার দুর্ব্যবহারে তারা সেখান থেকে চলে আসে এবং একটা পাহাড়ের গায়ে কাটা কৃত্রিম গুহায় আশ্রয় নেয়। সেখানেই সুটসুকুকে নিয়ে সেইটার দিন কাটতে থাকে। চারিদিকের এতসব দুর্ঘটনা বিরূপ পরিবেশের মধ্যেও সেইটা সুটসুকুকে পরম মমতায় আগলে রাখে। নানান দুষ্টুমিতে সুটসুকুকে সবসময় খুশি রাখার চেষ্টা করে যায়। একসময় সুটসুকু অসুস্থ হয়ে পরে,কারণ সে বাচ্চাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার পাচ্ছিল না। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মারা যায় সে। অত:পর সাবওয়ে স্টেশনে সেইটার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হয় গল্প।

ছবিটিতে সেইটা আর সুটসুকুর মধ্যে অসাধারণ কিছু ডায়ালগ আছে। আছে চমৎকার কিছু মুহূর্ত। সুটসুকু যখন সেইটাকে প্রশ্ন করে কেন জোনাকিরা দ্রুত মারা যায় তখন সত্যিই কোন জবাব থাকে না। না সেইটার কাছে, না আমাদের কাছে। তবে সুটসুকুকে নিয়ে সেইটার জোনাকি ধরা, সৈকতে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া, সুটসুকুর ছোট ছোট আবদার গুলো রাখার মতো সিনগুলো সত্যিই অসাধারণ অনুভূতি দেয়।
গ্রেইভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইস এর গল্পে কোন মেলোড্রামা নেই। একেবারেই সহজ সরল একটি গল্প। কিন্তু দেখার পরে মনে হয় এভাবেই যেন গল্পটি সবচেয়ে সুন্দর। সিনেমাটির সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য হচ্ছে ছোট্ট সুটসুকু যখন বিছানায় নিশ্চল পরে থেকে মার্বেল পাথরকে ফ্রুট ড্রপস মনে করে চুষতে থাকে এবং সেইটাকে মাটির দলা দেখিয়ে বলে তোমার জন্য রাইস বল রেখেছি, এই নাও। তবে সিনেমায় টিনেজ সেইটাকে আমরা যে দায়িত্বশীল রূপে দেখতে পাই তা-ই প্রকাশ করে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ!

ছবিটার এনিমেশন খুবই চমৎকার। ফ্রেমগুলোতে খুব সুন্দর শৈল্পিকতা রয়েছে। তবে এনিমেশনের ক্ষেত্রে সবসময় বাস্তবতার পুংখানুপুংখ অনুসরণ করা হয়নি। বরং কিছুটা নিওরিয়ালিস্টিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যা সিনেমাটির আবেদনকে আরও বেশি বাস্তব করে তুলেছে। গ্রেইভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইস নোসাকা আকিউকির লেখা একটি সেমি অটোবায়োগ্রাফিক্যাল নভেল অবলম্বনে তৈরী- যার বোন যুদ্ধের সময় ক্ষুধার তাড়নায় মারা গিয়েছিল।